নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তমালতলা থেকে পকেটখালি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ প্রকল্পে কৃষকদের ফসলি জমির মাটি জোরপূর্বক কেটে নেওয়ার অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী জানান, প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত মাটি না কিনে রাস্তার আশপাশের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে মালিকেরা পাচ্ছে না কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জানা গেছে, প্রায় ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকার এই প্রকল্পে মাটি কাটার জন্যই বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৮২ লাখ টাকা। কিন্তু এসব বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার না করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কৃষকের জমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকল্পটির কার্যাদেশ যশোরের ‘জাকাউল্লা অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেলেও মাঠপর্যায়ে কাজ পরিচালনা করছে নাটোরের ‘আসিফ এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি স্থানীয় ঠিকাদার।
একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কোনো অনুমতি ছাড়াই জমির মাটি কেটে নিয়েছে। প্রথম দিকে কিছু কৃষক প্রতিবাদ করলেও কোনো লাভ হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাব্বির হোসেন বলেন, আমাকে কিছু না জানিয়েই আমার জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করেও লাভ হয়নি। শুধু আমিই না রাস্তার পাশে যাদের জমি আছে সবারই একই অবস্থা।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে এসব অভিযোগ যাচাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল এলাকায় অভিযান চালায়। নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তারা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহ করেন।
এসময় দুদক কর্মকর্তা তানভির আহম্মেদ সিদ্দিক বলেন, প্রকল্পে ফসলি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারসহ একাধিক অনিয়মের প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে পাঠানো হবে।
