ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন হলটির আবাসিক এক শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রবীন্দ্র ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন ওই শিক্ষার্থী। পরে হলের কর্মচারীদের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. দেবাশীষ পাল বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মুনসুর বলেন, প্রাথমিকভাবে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বিস্তারিত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সঠিক কারণ জানা যাবে। তিনি জানান, পরে হলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ওই যুবক ভবন থেকে ওখানে পড়ে গেছেন। তবে কীভাবে পড়েছেন বা লাফ দিয়েছেন কি না, তা বলতে পারছেন না। নিহত শিক্ষার্থীর নাম সঞ্জু বাড়ই। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায়। তার পিতা গ্রামপুলিশ ও মাতা চাশ্রমিক।
সঞ্জুর সহপাঠী ও হল প্রভোস্ট সূত্রে জানা যায়, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান সঞ্জু পারিবারিক অবস্থান নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন। অন্যদিকে প্রেমের সম্পর্কের টানাপড়েনে গত সরস্বতী পূজার পর থেকেই ছিলেন হতাশায়। এসব কারণেই সঞ্জু আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করছেন তার সহপাঠীরা।
এর আগে গত সোমবার রাত ১২টা ৮ মিনিটে ক্ষমা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেন, ‘আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি, আমি দিনের পর দিন কাউকে ডিস্টার্ব করে গেছি। উল্টো মানুষকে দোষারোপ করা আমার একদম ঠিক হয়নি, আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি দিনের পর দিন অন্যায় করেছি, নিজের দোষ ঢেকে অপরজনকে দোষ দেওয়া আমার ঠিক হয়নি। আমি সকলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমার কারণে কারও কোনো ক্ষতি হলে সে দায় একান্তই আমার, আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’
এ বিষয়ে, জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট বলেন, রবিবার কোনো এক বন্ধুর বাসায় ছিলেন সঞ্জু। ভোর ৪টার দিকে হলে ফিরেন সঞ্জু। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী এ সময় সঞ্জু হলের ছাদে গিয়ে ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ সময় হলের একজন ক্লিনার তাকে দেখতে পেয়ে কর্মচারীদের নিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
