মাকে হত্যা

৩০ বছর কারাভোগের পর মানসিক ভারসাম্যহীন কনু মিয়ার জামিন

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৫, ১০:১১ পিএম

মানসিক ভারসাম্যহীন হয়েও বিচারহীন ত্রিশ বছরের অধিক সময় হাজতবাস করছেন কনু মিয়া। মাকে হত্যার দায়ে তিনি ১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন। তিনি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের মৃত চিনি মিয়ার পুত্র। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টায় তাকে জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল বেলা ২টায় ঘুমন্ত মা মেজেষ্টর বিবিকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন মানসিক ভারসাম্যহীন কনু মিয়া। পরে গ্রামবাসী তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। এ ব্যাপারে কনু মিয়ার সহোদর মনু মিয়া লাখাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ বিগত ১৯৯৬ সালের ২৩ মার্চ মামলায় অভিযোগ পত্র দাখিল করে।

জেলার মনির হোসেন চৌধুরী জানান হবিগঞ্জ ও সিলেট কারাগার এবং পাবনা মানসিক হাসপাতালে কনু মিয়ার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। বর্তমানেও তিনি হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সময়ে অবগত করেছেন। মামলাটি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে কার্যক্রম স্থগিত ছিলো বলে তিনি শুনেছেন।

হবিগঞ্জ জজ কোর্টের পিপি মো. আব্দুল হাই জানান, মামলাটি উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত ছিল বলে তিনি জেনেছেন।

উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মুহম্মাদ আব্বাছ উদ্দিন বিষয়টি জানার পর আসামিকে আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য গত ৯ জুলাই একজন আইনজীবী নিযুক্ত করেন।

গত সোমবার আদালতে জামিনের প্রার্থনা করা হলে জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম আসামী কনু মিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার বাদী মনু মিয়া অপর ভাই নাসু মিয়া জিম্মানামা প্রদান করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত