রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নান্নুকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জস্থ র্যাব-১১ ও রাজধানী ঢাকার র্যাব ১০। সোমবার রাত ১টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃত মো. নান্নু কাজী শরিয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানাধীন প্রিয়কাঠি এলাকার আব্দুল কাদের কাজীর পুত্র।
র্যাব জানায়, বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে নান্নু তার মামাবাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকা-ে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য র্যাব-১০ এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে এই নান্নু ভাইরাল ভিডিওর ইট ও সিমেন্টের ব্লক দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা চারজনের একজন। এ নিয়ে এই হত্যাকা-ের ঘটনায় মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে ১৩ জুলাই সকালে রাজধানী ঢাকা ও নেত্রকোনা থেকে সজীব ও রাজীব নামে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে এবং ইট-পাথরের টুকরো দিয়ে থেঁতলে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করা হয়। তার শরীরের ওপর উঠে উন্মাদ নৃত্য করে কেউ কেউ।
পরে ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা বাংলাদেশ। নিহতের বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
আসামি মহিন ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডে : রাজধানীর পুরার ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে মাথা থেঁতলে হত্যা মামলা আসামি মাহমুদুল হাসান মহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়ার আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান রিমান্ডের এ আদেশ দেন। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল মহিনকে আদালতে হাজির করে আবারও রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ।
গত বুধবার বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় ভাঙাড়ি পণ্যের ব্যবসায়ী লাল চাঁদ সোহাগকে। হত্যার আগে ডেকে নিয়ে সড়কে ফেলে তাকে পিটিয়ে এবং ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। বিবস্ত্র অবস্থায় তার শরীরের ওপর উঠে লাফায় ঘাতকরা। হত্যাকা-ের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ জুড়ে নিন্দা ও ঘাতকদের বিচার দাবিতে সোচ্চার হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ইতিমধ্যে এ হত্যাকা-ের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
