সিএমপির মামলা নিয়ে নানা প্রশ্ন

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৫, ০৭:৪৬ এএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে হতাহতের ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ১৬টি থানার মধ্যে ৮টিতে ৬৩টি মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি হত্যা মামলা। তবে, তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখনো কোনো মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দিতে পারেননি।

সিএমপির অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার রইছ উদ্দিন জানিয়েছেন, তদন্ত ‘চলমান’ রয়েছে। তবে তদন্তে ধীরগতির কারণ, তদন্তকারীদের ওপর ‘অদৃশ্য শক্তির’ চাপ, বা আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের গাফিলতি নিয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি।

সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এই ৬৩টি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ৬ হাজার ৬৯৪ জন এবং অজ্ঞাতনামা আসামি ১০ হাজার ৬৩৬ থেকে ১৩ হাজার ৫৯০ জন। এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ১৪৬ জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত ৮৩৭ জনসহ মোট ৯৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অবশ্য, খুলশী থানার একটি মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি সিএমপি। বাকি মামলাগুলোর তদন্তে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাও সিএমপি স্পষ্ট করেনি।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তকারী কর্মকর্তারা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এর মধ্যে রয়েছে শহীদদের ময়নাতদন্ত না হওয়া, মেডিকেল প্রতিবেদনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর উল্লেখ বা মৃত্যুর সঠিক কারণ না থাকা, এজাহারে ঘটনাস্থলের ভুল বর্ণনা, এবং মামলায় অতিরিক্ত ঢালাও আসামি অন্তর্ভুক্তি। এছাড়া, তদন্তকারীদের ওপর অদৃশ্য শক্তির চাপও তদন্তে বাধা সৃষ্টি করছে।

অভিযোগ রয়েছে, মামলাগুলোতে অপরাধীদের তুলনায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের বেশি আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এটি স্বীকার করে নিরপরাধদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশনা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পেয়েছে। সিএমপির মেন্টর কমিটি মামলার ত্রুটি-বিচ্যুতি তদন্ত করছে বলে জানান রইছ উদ্দিন।

এদিকে মামলার তদন্তে ধীরগতির কারণে নিরপরাধ ব্যক্তিরা আতঙ্কে রয়েছেন। গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকে এলাকায় ফিরতে পারছেন না, ফেরারি জীবনযাপন করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, অসাধু পুলিশ এবং অন্যান্য পক্ষ আসামিদের ভয় দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে। পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটের সূত্র জানায়, চান্দগাঁও থানার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করছে সিকিউরিটি সেল। মামলাগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, চট্টগ্রামের প্রায় সব আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। এমনকি ঘটনার সময় বিদেশে থাকা বা চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নাসিরুল আলম জানান, তিনি ৩০ বছর ধরে আমেরিকায় থাকেন, ৬ মাসের জন্য দেশে এসেছেন, তবুও কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। পটিয়ার সাইফুদ্দিন হাসান টিটু জানান, তিনি তিনটি মামলায় আসামি।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নিরপরাধদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আইজিপির নির্দেশনা রয়েছে। অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করতে থানার ওসি ও তদন্তকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে ১৩ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচলাইশের মোহাম্মদ আলম, হাটহাজারীর জামান উদ্দিন, লোহাগাড়ার ইসমাদুল হক, লালখানবাজারের শহীদুল ইসলাম, চকবাজারের মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, বোয়ালখালীর ওমর নুরুল আবছার, সন্দ্বীপের মাহিন হোসেন সাইমুন, কক্সবাজারের মোহাম্মদ ওয়াসিম, মহেশখালীর তানভীর ছিদ্দিকী, চকরিয়ার আহসান হাবিব। তদন্তের ধীরগতি ও নিরপরাধদের হয়রানির অভিযোগে সংশ্লিষ্টরা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত