কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার প্রকৌশল অফিসে এক জামায়াত নেতার হুমকির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণকে লাথি মেরে বের করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন জামায়াতের একজন স্থানীয় নেতা। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে একটি রাস্তা সংস্কারকে ঘিরে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। ভাইরাল হওয়া ২০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণের কক্ষে উপস্থিত হয়ে তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়ান মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুব আলম মুন্সী। কথাবার্তার একপর্যায়ে তিনি প্রকৌশলীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাকে লাথি মেরে অফিস থেকে বের করে দেব।’
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মাহবুব আলম মুন্সী জানান, মুরাদনগরের পাহাড়পুর ইউনিয়নের বাঁশকাইট থেকে প্রান্তি বাজার পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য তিনি ও স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসী মিলে রাস্তা সংস্কারের আবেদন নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান।
তাঁর ভাষায়, ‘তখন তিনি আবেদনটি দেখে গড়িমসি শুরু করেন। তিনি বলেন এটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব। রাস্তাটির সংস্কার খুবই জরুরী এই বিষয়টি উনাকে বুঝাতে গেলে ওনি আমার সাথে রেগে যান।’
তিনি বলেন, যদি রাস্তা ভেঙে পানি জমে থাকে তাহলে আপনারা গিয়ে বালতি দিয়ে সে পানি পরিষ্কার করেন। উনি উত্তেজিত হয়ে গেলে, তখন আমিও উত্তেজিত হয়ে যাই। পরে আমাদের মুরুব্বীরা এসে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বসে ঘটনাটির সুরাহা করে নেয়। শর্ত অনুযায়ী আমার কাছে কিছু ভিডিও ছিল, তা আমি ডিলিট করে দেই। আসলে ওই ঘটনার সময় আমাদের প্রায় ১০ মিনিট তর্ক বিতর্ক হয়েছে। দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনার বিষয়ে প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর আ ন ম ইলইয়াস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘যে ঘটনাটি হয়েছে সেটি দুঃখজনক। এক পক্ষ থেকে তো আসলে কোন ঘটনা তৈরি হয় না। যাইহোক বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে বসে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে সুরাহা করেছি। এই ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। এ ধরনের ঘটনা, না হওয়াটাই ভালো।’
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘রাস্তা সংস্কারের আবেদনটি নিয়ে প্রথমে আমার কাছে এসেছিল। আমি তখন তাদেরকে উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়েছি। ওখানে গিয়ে তারা আসলে কি করেছে আমি তা জানি না। পরে আমি তাদের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকদেরকে ডেকেছিলাম। পরে তারা উপস্থিত হয়ে এ বিষয়টির ওপর দুঃখ প্রকাশ করেছে।’
ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
শুরু হচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি; কীভাবে টিকিট কিনবেন?
বেনাপোলসহ বদলি ১১ কাস্টমস কমিশনার