গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অপহৃত এক কিশোরীকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব-১৩) গাইবান্ধা ক্যাম্পের সদস্যরা। এতে অন্তত চারজন র্যাব সদস্য আহত হন। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ফাঁকা গুলি ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার চাঁদপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে ওঅপহরণকারী লিয়ন মিয়া (২২), নয়াপাড়া গ্রামের তাজু মিয়া (২৭) ও মুন্না মিয়া (২৪)।
র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মো. নওশের আলী জানান, লিয়ন বাবু গত শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে একই উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের শাহীন মিয়ার স্কুল পড়ুয়া ১৩ বছরের কিশোরী শারিয়া মোসতারিনকে অপহরণ করে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই কিশোরীর স্বজনরা গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিয়নকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করে। সেই মামলায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তার করতে গেলে হামলার শিকার হয় র্যাব।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের সদস্যরা নয়াপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান করা হয়। ওই বাড়ি থেকে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার ও অপহরণকারী লিয়ন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসময় লিয়ন মিয়ার স্বজন ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পরে র্যাবের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি লিয়নকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় র্যাবের চার সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় র্যাব ফাঁকা গুলি ছুড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে লিয়ন মিয়া ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি বুলবুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার করা অপহৃত কিশোরী, অপহরণকারী প্রধান আসামি লিয়ন মিয়া ও তার দুই সহযোগীকে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানে হয়েছে। হামলার ঘটনায় র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মো. নওশের আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে ২৮ জনের নাম উল্লেখ ও ৫০/৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
