ইসরায়েলি হামলার সময় ইরানি জনগণের নীরব একাত্মতা যেন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থন হিসেবে ভুলভাবে দেখা না হয়, এ বিষয়ে মধ্যপন্থীরা সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, মীমাংসার পথ এখনো খোলা, কিন্তু তা সম্পূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সম্ভব।
ইরানি মধ্যপন্থীরা মনে করেন, ১২ দিনের যুদ্ধে দেশকে রক্ষায় জনগণ পাশে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু শাসনব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা নেই।
সাঈদ হাজ্জারিয়ান বলেন, ‘যদি কেউ ভাবেন জনগণের ঐক্য বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টির প্রতিফলন, তাহলে তা কৌশলগত ভুল। এতে মানুষের হতাশা বাড়বে আর শত্রুর আত্মবিশ্বাসও।’
তিনি বলেন, ‘ওই ঐক্য জাতীয়তাবাদ নয়, দেশপ্রেম থেকে এসেছে। জাতীয়তাবাদ তখনই গড়ে ওঠে যখন রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণে বিশ্বাসী হয়। আমরা এখনও সেখানে পৌঁছাইনি। সরকারের উচিত মানুষের হৃদয় জয় করা।’
সংস্কারপন্থী আলি সুফি বলেন, ‘যেমন জনগণ ও রাজনৈতিক দল শর্তহীনভাবে দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রকেও অন্ধদৃষ্টি থেকে বেরিয়ে সংস্কারে এগোতে হবে।’
রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি সংস্কারের অন্যতম বড় দাবি। গৃহবন্দি মীর হোসেইন মুসাভি ও কারাগারে থাকা মোস্তাফা তাজজাদেহর মুক্তি জাতীয় ঐক্যের বাধা বলে মনে করা হয়।
মুসাভি সম্প্রতি সংবিধান সভার জন্য গণভোটের ডাক দিয়েছেন, বলেন বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো দেশের সকল শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে না।
বিশ্লেষক আহমদ জেইদাবাদী বলেন, ‘বাইরের হুমকিতে গড়া ঐক্য টেকবে না যদি সমালোচকদের কথা দমিয়ে রাখা হয়।’
কয়েকদিন পর তাজজাদেহর সাজা পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১৭ বছর করা হয়।
জনগণের মধ্যে সংস্কারপন্থী কিংবা কট্টরপন্থী নির্বিশেষে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে স্লোগান ছিল, ‘সংস্কারপন্থী হোক বা কট্টরপন্থী, গেম শেষ।’
তবে সংস্কারপন্থীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গ্রীন মুভমেন্টের নেতারা যুদ্ধের সময় দেশ রক্ষায় একাত্মতা দেখিয়েছেন। তারা বলছেন, মীমাংসার পথ এখনও আছে, কিন্তু সরকারের সাহসী পদক্ষেপ প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি শুধু রাজনৈতিক নয়, জাতীয় ঐক্যের জন্য প্রয়োজনীয় দাবি। তবে সাধারণ মানুষের মন এখন রাজনৈতিক সংস্কারের চেয়ে দৈনন্দিন দুর্ভোগ, দুর্নীতি ও সামাজিক নিষেধাজ্ঞায় বেশি অনড়।
স্বাধীন বিশ্লেষক হাদি আলামি ফরিমান লিখেছেন, ‘সরকার বৈষম্য, অবিচার, দুর্নীতি, স্বচ্ছতার অভাব ও সামাজিক অসাম্য না দূর করলে জাতীয় ঐক্য ভঙ্গুর ও শর্তাধীন থাকবে।’
এমনকি শাসক দলের মধ্যে থেকেও এ বিষয়ে সতর্কতা এসেছে। রক্ষণশীল রাজনীতিক আবুল কাসেম রউফিয়ান বলেন, ‘হ্যাপেনিংসের সময় জনগণ মাঠে নামবে—এমন ভুল ধারণা যেন কখনো তৈরি না হয়।’
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
ইরানকে সময় দিয়ে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন
নানা সংকটে পুলিশে প্রস্তুতির ঘাটতি!