পটুয়াখালী জেলার দুমকিতে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত পীরতলা বাজার, আঙ্গারিয়া বন্দর, মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার, জলিশা কদমতলা বাজার ও বাজার সংলগ্ন খালের অধিকাংশ জমি অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে গেছে। একশ্রেণীর প্রভাবশালী অবৈধ দখলদার বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখলী জমিতে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ স্থাপনা তৈরি করে ভোগদখল করে আসছে। কিন্ত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বরাবরের মতো প্রশাসন রয়েছে নিশ্চুপ। বিষয়টি তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন।
ভূমি প্রশাসনের রহস্যজনক এমন নিরবতার কারণে কোটি কোটি টাকা মূল্যের এসব খাস জমি ক্রমে ক্রমেই বেহাত হয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব, অন্যদিকে খাল ভরাটের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে সেচ সংকটে ফসলের আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শহরের ঐতিহ্যবাহী পীরতলা খালের উভয় পারে গড়ে ওঠা অধিকাংশ অস্থায়ী দোকান পাটের পেছনের অংশ (খালের জমি) ভরাট করে প্রভাবশালী দোকান মালিকরা তাদের দোকান-পাটের আয়াতন বৃদ্ধি করেছেন। কেউ কেউ তাতে স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে বছরের পর বছর ধরে ভোগ দখল করার পাশাপাশি বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলে খালটির নব্য সংকট সৃষ্টি করছেন। এমন দখল-দূষণে খালটি সংকুচিত হয়ে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
এভাবে উপজেলার আঙ্গারিয়া বন্দর, দুমকি সাতানীর কালবার্ড বাজার, মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার সংলগ্ন খালের পাড়ের খাস জমিও বেখদল হয়ে গেছে এবং এখনও হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ দখলদাররা প্রথমে কাঠ, বাশ ও টিনের অস্থায়ী দোকান তোলেন এবং পরবর্তিতে ওইসব দোকানের ভেতর থেকে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলেন। আর এভাবেই খালগুলো দখল হতে হতে অস্তিত্ব হারিয়ে সংকুচিত নালায় পরিনত হয়েছে।
অভিযোগ আছে, ভূমি প্রশাসনের একশ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের যোগসাজসে (লেনদেন) অবৈধ দখলদারা প্রকাশ্য দিবালোকে ঐসব দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে কোনই পদক্ষেপ নেয়নি। আরও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, অবৈধভাবে দখলদার ও স্থাপনা চিহ্নিত করণের কাজটিও করা হয়নি। দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করত: সরকারি খাস জমি উদ্ধারের দাবি স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও অতিরিক্ত দায়িত্বরত সহকারি কমিশনার ভূমি আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কোন তথ্য আমার জানা নেই। ফাইল দেখতে হবে। নূতন করে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়নি।
তবে জেলা প্রশাসক স্যারের সাথে সম্প্রতি এ বিষয়ে মৌখিকভাবে আলোচনা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সাজিদের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে ইবি ছাত্রদলের মানববন্ধন
জামায়াতের সমাবেশ ঘিরে পুলিশ-র্যাবের ৪ স্তরের নিরাপত্তা