ক্ষতিপূরণের ভয়ে আজহার মাহমুদকে বাধ্য হয়ে কোচ করেছে পাকিস্তান! 

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ০৬:১৮ পিএম

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চায় জাতীয় দলের লাল বলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ আজহার মাহমুদকে ছাড়তে। তবে বোর্ডের আগের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে করা চুক্তির কারণে বর্তমান কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে তাকে এখনো বহাল রেখেছে। বোর্ডের এক অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই আজহারকে বরখাস্ত করলে পিসিবিকে ছয় মাসের বেতন হিসেবে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১.৩৮ কোটি ভারতীয় রুপি বা ১.৬ লাখ মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আজহার মাহমুদের মাসিক বেতন প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি। তাই তাকে না চাইলেও এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ এড়াতেই আপাতত তাকে জাতীয় টেস্ট দলের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যেটি তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত—আগামী বছরের এপ্রিল বা মে মাস পর্যন্ত—বহাল থাকবে।

অন্যদিকে, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত হোয়াইট-বল দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি নিজস্ব কোচিং স্টাফ নিয়েই কাজ করতে চান এবং সেখানে আজহারের কোনো জায়গা নেই। এতে পিসিবি বড় এক সমস্যার মুখে পড়ে—আজহারের বিশাল বেতন প্রদানকে কীভাবে যৌক্তিক করা যায়। তাকে বরখাস্তও করা যাচ্ছে না চুক্তির কারণে।
আজহার মাহমুদ নিজেও নাকি বোর্ডের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তিনি অনুরোধ করেছেন যেন তাকে অনূর্ধ্ব-১৯ বা জুনিয়র জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তবে বোর্ডের কিছু অভ্যন্তরীণ পক্ষ তাতে আপত্তি জানিয়েছে।

সাবেক পেসার এবং বর্তমানে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির প্রধান ও নির্বাচক আকিব জাভেদ, যিনি বোর্ড চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, তিনি আজহারের কোচিং স্টাইল পছন্দ করেন না। তাই কেবলমাত্র তার বর্তমান চুক্তিকে বৈধতা দেওয়ার জন্যই তাকে লাল বলের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, আজহার মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান জাতীয় দলের সহকারী কোচ ও বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তার বর্তমান চুক্তিটি আগের বোর্ড পরিচালন পর্ষদ দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল।

একই সূত্র জানায়, এর আগেও পিসিবি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ওয়াকার ইউনুস, সাকলাইন মুস্তাক, মিসবাহ-উল-হক এবং সরফরাজ আহমেদের মতো কোচদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে গিয়ে। তারা ‘চ্যাম্পিয়ন্স কাপ’ ঘরোয়া টুর্নামেন্টের পরামর্শক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন, কিন্তু প্রতিযোগিতাটি মাত্র এক মৌসুম পরই বাতিল হয়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে কোচিং স্টাফ নিয়োগ ও ছাঁটাই নিয়ে বড় ধরনের পরিকল্পনাগত ব্যর্থতার মুখে পড়েছে পিসিবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত