রংপুর নগরীতে একটি এলপি গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে গ্যাস কূপ মেরামতের ইঞ্জিনিয়ারের সহযোগী সেলিম রেজা নামে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর ব্যস্ততম সিও বাজার এলাকায় এলপিজি অটো গ্যাস অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারে দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্র্শীরা জানান, স্টেশনটির একটি রিজার্ভ ট্যাংকে কয়েক দিন আগে গ্যাস লিকেজ দেখা দেয়। সেটি মেরামতের সময় ভেতরে জমে থাকা গ্যাসের চাপে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাম্পের কাউন্টার, পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা ১৩টি মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স, নিকটে কয়েকটি দোকান ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচলরত একটি যাত্রীবাহী বাসও বিস্ফোরণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রংপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক বাদশা মাসউদ আলম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতরা হলেন, অজ্ঞাত কিশোর, ছালেক শাহ, তারাজুল, আলমগীর, সোহেল, বিপুল, রফিক, সোহাগ, বকুল, মজিবর, অজ্ঞাত পুরুষ, সাদমান ও রোজীকে এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, স্টেশনটির গ্যাস সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলা ছিল। ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পরিমল কুমার সরকার জানান, এ ঘটনায় এডিএমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
