শোকসন্তপ্ত শহর। সন্তানহারা পিতামাতার আর্তনাদ। দগ্ধদের আহাজারি। এত কিছুর মাঝেও রাজধানীর অন্য এক কোনায় বাংলাদেশের মেয়েরা সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের আনন্দের খবর এনে দিয়েছেন। তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফিরেই বাংলাদেশকে শিরোপা এনে দিয়েছেন সাগরিকা। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় তার চার গোলে নেপালকে অলিখিত ফাইনালে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। এই জয়ে সাফ অনুর্ধ্ব ২০ নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নিজেদের কাছেই রাখলো মেয়েরা।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে প্রথম গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে আক্রমণে উঠে চেয়েছিলেন চিপ করে গোল করতে। তবে সেটা কোনমতে কর্নারের বিনিমেয় রুখে দেন নেপাল কিপার সুজাতা তামাঙ। পঞ্চম মিনিটে স্বপ্নার কর্নারে সাগরিকার হেড গোল লাইন থেকে ক্লিয়ার করেন আনিশা। তবে তিন মিনিট পর সেই স্বপ্নার ডিফেন্স চেড়া থ্রু ধরে ঠিকই গোল করেন সাগরিকা। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে স্বপ্নার পাস নিয়ে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে আক্রমণে উঠেছিলেন বাংলাদেশ স্ট্রাই্কার। নেপালের আগুয়ান কিপার সুজাতা তামাং বক্স ছেড়ে বের হয়েও রুখতে পারেননি সাগরিকাকে। তাকে কাটিয়ে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে বল ফাঁকা পোস্টে জমা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফেরা সাগরিকা।
১৯ মিনিটে বড় বাচা বেচে যায় বাংলাদেশ। কিপার মিলি আক্তারের গ্লাভস ফসকে একটি বল বেরিয়ে গেলে পুর্নিমা রাইেয়ের ভলি দূরের পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সুক্রিয়া মিয়ার হেড মিলি সেভ করে। দুই মিনিট পর বক্সের বেশ বাইরে থেকে মুনকির বাঁ পায়ের শট অনেকটা দৌড়ে গিয়ে গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন আনিশা রাই। ফলে এক গোলের লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করতে হয় বাংলাদেশকে।
বিরতি থেকে ফিরে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেন সাগরিকা। ৫১ মিনিটে অসাধারণ গোলে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেন। উমেহ্লা মারমার থ্রু পাস ডান পা দিয়ে ধরে চকিতে ঘুড়ে মার্কারকে বোকা বানিয়ে বক্সে ঢুকে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে ডানপায়ের নিঁখুত শটে ২-০ করেন সাগরিকা। ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাগরিকা। নিজেদের অর্ধ্ব থেকে জয়নব বিবি রিতার লং বল ধরতে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে এগিয়ে যান এই স্ট্রাইকার। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দেখে শুনে ডান পায়ে চিপ করে আগুয়ান কিপারের মাথার ওপর দিয়ে জালে জমা করে উল্লাসে মাতেন তিনি। এটি এই আসরে তার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। প্রথমটি প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছিলেন সাগরিকা। ৭২ মিনিটে অফসাইডে বাতিল হয় সাগরিকার আরেকটি গোল। তবে পাঁচ মিনিট পর মুনকি আক্তারের থ্রু ধরে আরেকবার কিংস অ্যারেনার গ্যালারি জাগিয়ে তোলেন সাগরিকা। নিজের চতুর্থ গোল করেন বক্সের ঠিক ওপর থেকে ডান পায়ের মাপা প্লেসিংয়ে।
২০২৩ সালের পর আবারও অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ জিতলো বাংলাদেশ।
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হৃদয় নাড়া দিয়েছে তামিম-মাশরাফীদের
'প্রতিটি নিঃশেষিত পরিবারের কষ্ট আমার নিজেরই মনে হচ্ছে', শোক বার্তায় সাকিব
ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টের আগে ভারত দলে চোটের হানা