উরুগুয়ের মন্টেভিডিও শহরে ১৯৩০ সালে হুয়ান কার্লোস সেরিয়ানে নামে এক আর্জেন্টাইন ভদ্রলোকের উদ্যোগে প্রথম প্রচলন ঘটে ফুটসালের। ছোট মাঠ, ছোট পোস্ট, কম খেলোয়াড়ের এই খেলাটা দেখতে দেখতে শতবর্ষী হতে চলেছে। অথচ দুনিয়া জুড়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া ফুটসালের সঙ্গে বাংলাদেশের সখ্য নেই বললেই চলে। তাবিথ আউয়াল ফুটবলের দায়িত্ব নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন ফুটসালকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে। তার চেষ্টাতেই হয়েছে ফুটসাল কমিটি। আর সেই কমিটির আন্তরিকতায় বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে আগামী বছর ফুটসাল এশিয়ান কাপে খেলার। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ফুটসাল দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাফুফে তিন মাসের জন্য একজন ইরানি কোচও চূড়ান্ত করেছে। মিয়ানমার নারী ফুটসাল দলের সাবেক কোচ সাইদ খোদারাহমি আঁতুড়ঘরে থাকা বাংলাদেশিদের দেবেন ফুটসাল পাঠ।
আগামী ২০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় ফুটসাল এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের জি গ্রুপের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারের মতো এই বাছাইয়ে অংশ নেবে বাংলাদেশ। জি গ্রুপে আছে এশিয়ান ফুটসালের সবচেয়ে সফল দল ইরান। ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখবে বাংলাদেশ। গ্রুপের অপর দুই দল স্বাগতিক মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ইরান ফুটসাল এশিয়ান কাপে অংশ নিয়ে ১৭বার শিরোপা জিতেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নও তারা। বিশ্ব র্যাংকিংয়ের পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইরান। ফুটসালের অ আ ক খ শিখতে তাই বাফুফে সেই ইরান থেকেই উড়িয়ে আনছে ৫৯ বছর বয়সী কোচকে। মিয়ানমার অনূর্ধ্ব-২০ ফুটসাল দলেরও কোচ ছিলেন তিনি। এ ছাড়া ২০১০ সাল থেকে এএফসি’র ফুটসাল ইন্সট্রাকটর হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে সাইদের। বাফুফের ফুটসাল কমিটির তরুণ চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান সাইদের মতো একজন হাই প্রোফাইল কোচকে অল্প সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত করায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের প্রতি, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাফুফের মাননীয় সভাপতি তাবিথ ভাইয়ের সমর্থন পেয়ে আসছি। তিনি ভীষণ আন্তরিকতার সঙ্গে ফুটসালকে এগিয়ে নিতে সহায়তা দিচ্ছেন। তার এবং সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম ভাইয়ের তৎপরতায় আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাইদের মতো একজন অভিজ্ঞ কোচকে চূড়ান্ত করতে পেরেছি। আপাতত তিনি তিন মাসের জন্য আসবেন। এরপর আমরা দেখেশুনে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’
যেহেতু দেশে এর আগে সেভাবে ফুটসালের প্রচলন ছিল না। অ্যামেচার ও করপোরেট পর্যায়ে কিছু খেলা হতো। তাই ফুটসাল কমিটি বাছাইপর্বের জন্য দল গঠনে উন্মুক্ত ট্রায়ালের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০ ও ২১ জুলাই রাজধানীর হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে হয়েছে এই উন্মুক্ত ট্রায়াল। মোহামেডানের প্রধান কোচ আলফাজ আহমেদ, বসুন্ধরা কিংসের সহকারী কোচ মাহবুব হোসেন রক্সিসহ বেশ ক’জন কোচের ওপর ছিল ৬৩০ ফুটবলারের মধ্য থেকে প্রথম ধাপের বাছাই করা। দুদিনের ট্রায়াল থেকে তারা ৫২ জন ফুটবলারকে বাছাই করেন। দ্বিতীয় ধাপে এদের মধ্য থেকে ২৪ জনকে বাছাই করবে নির্বাচক কমিটি। আর চূড়ান্ত বাছাইটা করবেন কোচ সাইদ।
প্রথমবারের মতো হচ্ছে ফুটসাল জাতীয় দল। অভিষেকেই খেলতে হবে ইরানের মতো প্রবল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। এছাড়া স্বাগতিক মালয়েশিয়া আছে ৭৬তম স্থানে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ৯৭তম। এই র্যাংকিংয়ে এখনো নাম তোলা হয়নি বাংলাদেশের। তারপরও বাছাই উতরে আগামী বছর ইন্দোনেশিয়া চূড়ান্ত পর্বে খেলার স্বপ্ন দেখছেন ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর। কথাটা শুনে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন। তবে এই তরুণ ব্যবসায়ী বিশ্বাস করেন বড় স্বপ্নের দিকে ছুটলেই মিলবে ছোট ছোট সাফল্য, ‘স্বপ্ন দেখতে দোষ কী বলেন। আমরা মাত্রই আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু করেছি। তবে করপোরেট ও অ্যামেচার পর্যায়ে সারা দেশেই খেলাটা হয় নিয়মিত। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, আমাদের বেশ কিছু প্রতিভাবান ফুটবলার আছে। যাদের ভালোভাবে পরিচর্যা করা গেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।’
ইমরান নিজেও এক সময় নিয়মিত করপোরেট ফুটসাল খেলেছেন। দেশে-বিদেশে তার মালিকানাধীন দল নিয়মিত বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। এ দেশের ফুটসাল কমিটির হাঁড়ির খবর জানা হলেও তিনি চেয়েছেন উন্মুক্ত ট্রায়ালের মাধ্যমেই গড়ে উঠুক প্রথম ফুটসাল জাতীয় দল, ‘আমাদের রাডারে বেশ কিছু ফুটসাল খেলোয়াড় আছে। তারপরও আমরা চেয়েছি উন্মুক্ত ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে প্রতিভা বেছে নিতে। আমার জানা মতে নিয়মিত যারা খেলে তারাও এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছে। এর বাইরে জাতীয় দলে খেলা কানাডা প্রবাসী রাহবার ওয়াহেদ খানকে আমরা উড়িয়ে আনতে চাই। যদিও দলের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ। এখানে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত চলবে না।’
ফুটসাল এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে অংশ নিচ্ছে মোট ৩১ দল। আট গ্রুপ থেকে ১৫টি দল আগামী বছর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যোগ দেবে চূড়ান্ত পর্বে। ইরান, মালয়েশিয়া, আমিরাতের মতো দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে আনাড়ি বাংলাদেশ। চূড়া ছুঁতে না পারলেও আক্ষেপ নেই। সবে তো শুরু।
