ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ জেগে উঠেছে প্রতিরক্ষার নতুন এক বাস্তবতায়। আর সেই জেগে ওঠার এক চমকপ্রদ দিক—গোয়েন্দা কাজে ব্যবহৃত হবে তেলাপোকা!
জার্মানির এক স্টার্টআপ ‘স্বর্ম বায়োট্যাকটিকস’ তৈরি করছে বিশেষ ধরনের সাইবার তেলাপোকা, যেগুলো দেখতে যেমন সাধারণ তেলাপোকার মতো, তেমনি তারা পিঠে বয়ে বেড়ায় ছোট্ট একটি ব্যাকপ্যাক। এতে রয়েছে ক্যামেরা, সেন্সর, এবং নিয়ন্ত্রণযন্ত্র, যার মাধ্যমে তেলাপোকাগুলো মানুষের নির্দেশে চলতে পারে বা ঝাঁকে ঝাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান স্টেফান উইলহেলম বলেন, ‘এই বায়ো-রোবটগুলো শত্রুর এলাকায় ঢুকে নজরদারি চালাতে পারবে, তথ্য পাঠাবে রিয়েল টাইমে।’
এই প্রযুক্তিকে ঘিরে জার্মানির প্রতিরক্ষা ভাবনায় আসছে বড় পরিবর্তন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ছোট আকারের রোবট এবং গোয়েন্দা ড্রোনের মতো উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের যুদ্ধ কেমন হবে, তারই প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।
ইউরোপে প্রতিরক্ষায় প্রযুক্তির বিপ্লব
চার বছর আগে যে হেলসিং নামের স্টার্টআপটি ড্রোন ও যুদ্ধক্ষেত্রের এআই প্রযুক্তি নিয়ে শুরু করেছিল, আজ সেটি ইউরোপের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ। এ প্রতিষ্ঠানসহ অনেকেই এখন তৈরি করছে ‘ট্যাঙ্কের মতো রোবট, চালকবিহীন সাবমেরিন, এবং জীবন্ত তেলাপোকার মতো নজরদারি রোবট’।
জার্মান সরকারের লক্ষ্য, এইসব স্টার্টআপকে সরাসরি সামরিক খাতে যুক্ত করা। এজন্য তারা আইন সংশোধন করে অগ্রিম অর্থ প্রদানের সুযোগ করে দিচ্ছে, যাতে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অংশ নিতে পারে।
বদলে যাচ্ছে সমাজের মনোভাব
আগে জার্মানিতে প্রতিরক্ষা খাতকে ‘অবাঞ্ছিত’ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর সাধারণ মানুষও এখন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সাইবার ইনোভেশন হাব–এর প্রধান স্বেন ভাইজেনেগার বলেন, ‘আগে যেখানে সপ্তাহে ২-৩টি বার্তা পেতাম, এখন প্রতিদিন ২০-৩০ জন নতুন প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনের ধারণা নিয়ে যোগাযোগ করছেন।’
প্রযুক্তির শেকড় আর অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
জার্মানি একসময় ক্ষেপণাস্ত্র ও জেট প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এবার তারা চায় সেই বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের ঐতিহ্য নতুন রূপে ফিরিয়ে আনতে।
‘শক্তিশালী প্রতিরক্ষা মানেই শক্তিশালী অর্থনীতি’ বলছেন এক বিনিয়োগকারী।বিনিয়োগও বাড়ছে দ্রুত। ২০২২ সালে যেখানে ইউরোপের প্রতিরক্ষা স্টার্টআপে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ছিল মাত্র ৩৭৩ মিলিয়ন ডলার, ২০২৪ সালে তা ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে জার্মানিতেই—১.৪ বিলিয়ন ডলার।
এই গোয়েন্দা তেলাপোকা যেন এক প্রতীক—ভবিষ্যতের যুদ্ধ আর কেবল কামান-ট্যাঙ্কের লড়াই নয়। এটি হবে প্রযুক্তি, এআই, এবং সৃষ্টিশীলতার যুদ্ধ।
জার্মানির লক্ষ্য, ইউরোপকে আবার একটি সাহসী, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা কাঠামো দেওয়া—যার সূচনা হচ্ছে ছোট্ট এক তেলাপোকা দিয়ে।
সূত্র: রয়টার্স
ট্রাম্প প্রশাসনকে ২২১ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিচ্ছে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্টগুলোর তালিকায় পাকিস্তান
হারের পর গ্যালারিতে সমর্থকের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন নেইমার