নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাব

রাঙ্গাবালীতে আজও বেড়েছে জোয়ারের পানি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত 

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ০২:৪৯ পিএম

নিম্নচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। আজ সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে৷ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে আকাশ। সাগর রয়েছে উত্তাল। নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া এলাকায় ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধের অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধের বাহিরের উপজেলার নিচু এলাকাগুলোর ঘরবাড়ি, পুকুর-ঘের ও ফসলের জমি প্লাবিত হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে দিন পার করেছে সাধারণ মানুষ।  চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউ বাজার, মিটার বাজার ও নয়ারচর এলাকায় নদী ভাঙনও নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, উপকূল অতিক্রম করা নিম্নচাপটি বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন ঝাড়খণ্ড অঞ্চলে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় ১৫টি জেলায় ১ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

পায়রাসহ চার সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নদীবন্দরগুলোর জন্য আজকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এজন্য পটুয়াখালী নদী বন্দরে এক নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর এমন দুর্ভোগের কথা বলা হলেও ভাঙা বাঁধ টেকসই সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে ঝুঁকিতে আছে মানুষ ও সম্পদ।

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিপ্লব হাওলাদার জানান, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা বাদে বাকি সব এলাকায় আজ জোয়ারের পানি ঢুকেছে। বসতবাড়ির চারপাশে পানি উঠে গিয়েছিল। প্রতিটি বাড়ির পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। একটু জোয়ারের পানি বাড়লেই চালিতাবুনিয়ার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণের কথা বারবার বলছি। তারা বলছে শুকনা মৌসুম ছাড়া পারবে না। তাই এখন দুর্ভোগ পোহানো ছাড়া উপায় নেই।

চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাসুদ হাসান জানান, চরমোন্তাজের বেড়িবাঁধের বাহিরের নিচু এলাকা এবং চরআন্ডার ভাঙা বাঁধের অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকেছে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জানিয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। আপডেট পেলে পরবর্তীতে জানানো হবে।

উপজেলা সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নিচু এলাকার মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হওয়ার খবর শুনেছি। তবে ঠিক কতটি ঘের ও পুকুরে পানি প্রবেশ করে মাছ ভেসে গেছে, তা পরবর্তীতে বলা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত