টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শচিন টেন্ডুলকার। রেকর্ডের সেই পাতায় চোখ রাখলে প্রশ্ন জাগতে পারে কে তাকে ছাড়িয়ে যাবেন? এই তালিকায় সেরা পাঁচে নাম থাকা চারজনই ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন। খেলে যাচ্ছেন কেবল একজনই, তিনি জো রুট। রানের সংখ্যায় শচিনকে ছাড়াতে পারেন এখন কেবল তিনিই। শুধু রান নয়, সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙারও আছে সম্ভাবনা। তবে ইংল্যান্ডের এই ব্যাটারের মনযোগ শুধুই ইংল্যান্ডকে জেতানো, রানের রেকর্ডের পেছনে ছোটা নয়।
ভারতের বিপক্ষে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টের চতুর্থ দিনে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে টেস্ট ক্রিকেটে ১৩ হাজার ৪০৯ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন রুট। টেস্ট ইতিহাসে এখন তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। শীর্ষে থাকা টেন্ডুলকারের ১৫,৯২১ রানের চেয়ে পিছিয়ে আছেন ২ হাজার ৫১২ রান।
তবে রেকর্ড নিয়ে ভাবনার বদলে রুটের চোখ জয়ের কৌশলে। শুক্রবার তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে রুট এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এই ধরনের বিষয়গুলো নিজস্ব গতিতেই আসবে। আমার মনোযোগ ম্যাচ জেতানোর ওপর। কখনও সেটআপ করতে হবে, কখনও রান তাড়া। পরিস্থিতির দাবি বুঝে খেলার কৌশল ঠিক করাই আসল কাজ। হয়তো শুনতে একঘেয়ে লাগতে পারে, কিন্তু এটিই আমার কাজ—ইংল্যান্ডকে ম্যাচ জেতানো। এ কারণেই তো আমরা খেলি।’
ভারতের বিপক্ষে কাল ক্যারিয়ারের ৩৮তম সেঞ্চুরির দেখা তিনি পেয়ে গেছেন। ১৫০ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়েছেন। এই ইনিংসেই রাহুল দ্রাবিড়, জ্যাক ক্যালিস ও রিকি পন্টিংকে টপকে যান রুট। ১৫৭টি টেস্ট খেলেই পৌঁছে যান এই উচ্চতায়। তুলনায়, টেন্ডুলকার খেলেছেন ২০০ টেস্ট। ২০১২ সালে রুট যখন ভারতের মাটিতে টেস্ট অভিষেক করলেন, টেন্ডুলকার তখন দলের অভিজ্ঞ সদস্য।
টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে খেলবেন না বলেই জানিয়েছেন রুট। তিনি বলেন, ‘রিকি পন্টিং আমার ছোটবেলার আদর্শ ছিলেন। ওর মতো করে পুল শট খেলার চেষ্টা করতাম, ক্লাব মাঠে ওর ব্যাটিং নকল করতাম। আজ যখন আমার নামও তাঁদের পাশে উচ্চারিত হয়, নিজেকে সৌভাগ্যবানই মনে হয়।’
ইতিমধ্যেই রুট ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট রান ও সেঞ্চুরির মালিক (৩৮টি)। অর্ধশতকের সংখ্যাও পৌঁছে গেছে ১০৪। শীর্ষে থাকা টেন্ডুলকারের টেস্ট সেঞ্চুরি ৫১টি, ফিফটি ১১৯টি। যা আর বেশি দূরে নয়। শচিনের সেঞ্চুরির উচ্চতা ছুঁতে প্রয়োজন আর ১৪টি সেঞ্চুরি। প্রতিনিয়ত যেভাবে নিজেকে নতুনভাবে গড়ছেন রুট, তাতে সাদা পোশাকের সব রেকর্ড যে নিজের করে নেবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কোভিডের সময়কালের ব্যতিক্রমী প্রস্তুতিই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন রুট। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি নাসের হুসেনের সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। ভিডিও ফুটেজ চেয়েছি, দেখেছি কোন সময় কোনভাবে আউট হচ্ছি। নিজের খেলা বিশ্লেষণ করেছি একদম ভিন্নভাবে। আগে সব ছিল টেকনিকের ওপর: হাত-পায়ের অবস্থান, হেড পজিশন, ব্যাটিং গার্ড। এখন চেষ্টা করছি ঝুঁকি কমিয়ে কেমনভাবে সর্বোচ্চ রান পাওয়া যায় সেটা বোঝার।’
রুট যদি এই গড়েই এগিয়ে যান, তাহলে আরও ২৫ টেস্টে টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙা সম্ভব। বয়স তখন ৩৬। সময় তার হাতে আছে। কিন্তু রুটের দৃষ্টি সেসব সংখ্যায় নয়—দৃষ্টি বরং প্রতিটি ম্যাচে দলের জয়ে অবদান রাখায়।
৮ দলের এশিয়া কাপ শুরু হচ্ছে ৯ সেপ্টেম্বর
স্টোকসের আগে যে কীর্তি আছে সাকিব-মিরাজেরও