পাকিস্তানের সোয়াত, কোহাট ও কারাক জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক অভিযানে অন্তত পাঁচ জন সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় সোয়াতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নিহত হয় তিন জঙ্গি। এছাড়া কোহাট ও কারাক জেলায় পৃথক অভিযানে আরও দুই জন নিহত হয়েছে। শনিবার (২৬ জুলাই) এসব তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। খবর: ডন।
সোয়াত জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সন্ত্রাসীর উপস্থিতির নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়।
নিহতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আজমল ওরফে ওয়াকাস, যিনি মালুক আবাদের বাসিন্দা এবং তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত নয়টি সন্ত্রাসবিরোধী মামলা রয়েছে। দ্বিতীয় জন মাতিউল্লাহ ওরফে ইসহাক, আর তৃতীয় জন জুনায়েদ, ইবরাত শাহের ছেলে; তাঁরা দু’জনই শাংলার দাব্ব সার মারতুন এলাকার বাসিন্দা এবং দু’টি মামলায় পলাতক ছিলেন।
তৃতীয় জঙ্গি রাহিমুল্লাহ রেহমানি ওরফে রোহুল্লাহ, যিনি আফগানিস্তানের নুরিস্তানের শেরাই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধেও দুইটি মামলা ছিল।
সোয়াতের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উমর খান সাংবাদিকদের বলেন, গোটা জেলায় আরও অভিযান চলবে এবং আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে সকল প্রবেশ ও বাহিরের পথ কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “সোয়াতের শান্তি রক্ষায় কোনো আপস নয়।”
কোহাটে নিজেদের গুলিতেই নিহত জঙ্গি
একই রাতে কোহাটে পুলিশের অভিযানে জঙ্গি শাহজেব নিহত হয়। পুলিশের দাবি, তিনি নিজ দলের গুলিতে প্রাণ হারান। গত শনিবার হাঙ্গুর ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ অফিসারের গাড়িবহরে হামলার সময় আহত হয়ে পালিয়ে গিয়েছিল শাহজেব। পরে নারিয়াব বাঁধ এলাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, এলাকায় উমর ওরফে আবু বকর নামে এক জঙ্গি নেতার উপস্থিতি রয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দোআবা ও থাল এলাকার পুলিশ তোরা ওয়ারাই এলাকায় অভিযানে যায়। সেখানে ফের হামলার মুখে পড়ে তারা।
দোআবা থানার সাবেক ওসি ইমরানুদ দিন ও তাঁর দলের সঙ্গে দু’ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে। এ সময় শাহজেব তারই দলের গুলিতে নিহত হয় বলে পুলিশ দাবি করেছে।
কারাকে গোলাগুলিতে নিহত আরেক জঙ্গি
শনিবার কারাক জেলার শাহ সুলাইম এলাকায় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে আরও এক জঙ্গি নিহত হয়। পুলিশের ভাষ্য, সিটিডির সহায়তায় একটি দল আব্বাস খট্টাক এলাকায় জঙ্গি উপস্থিতির তথ্য পেয়ে শাহ সুলাইম এলাকায় তল্লাশি চালায়। সেখানেই শুরু হয় সংঘর্ষ।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘক্ষণ গুলি বিনিময়ের পর জঙ্গিরা পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে নিহত এক জঙ্গির মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার নাম ফিদাউল্লাহ। তিনি নাগরি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর কাছ থেকে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, দুটি হ্যান্ড গ্রেনেড, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, নিহত ফিদাউল্লাহ একাধিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং শুক্রবার কোহি-ময়দান এলাকায় পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত ছিল, যেখানে কনস্টেবল সাঈদ নওয়াজ শহীদ হন।
পুলিশ জানায়, আলাদা অভিযানে সিটিডির সহায়তায় সানাউল্লাহ জালালি ও আতাউল্লাহর নেতৃত্বাধীন জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এরা কারাক জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলায় যুক্ত ছিল। অভিযানে পার্বত্য এলাকায় তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং রসদ সরবরাহ পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, জেলাজুড়ে এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অবস্থাতেই জঙ্গিদের মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে ওড়ার আগমুহূর্তে প্লেনে আগুন
মেসি নেই, মায়ামির হয়ে গোল করারও কেউ নেই!
ইসিতে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিলো বিএনপি