পুড়তে হলে অন্ধকারই ভালো
আমার গভীরে তোমার সূক্ষ্মচাষ
তোমার গভীরে রুক্ষতা ছড়িয়ে দিচ্ছে
সামুদ্রিক জলস্ফীতির মতো
তোমার অবহেলা ছড়িয়ে পড়ছে
ঢেউয়ে ঢেউয়ে, নিরবচ্ছিন্ন স্পন্দে
সমর্পণে নিষ্কাশিত বালুর মতো
আমার ভেতর থেকে ঝুরঝুর করে ঝরছে রক্তরস
আমার শোবার ঘরে চষে বেড়াচ্ছে রাত্রির শিশুরা
এসব অনাহূত-নগ্ন-কুহেলী
আমাকে শেষ করে দিতে এদিকেই ছুটে আসছে
আমি ঢুকে যাচ্ছি অন্ধকারের প্রসবযজ্ঞে
কেন্দ্রবিন্দু
আত্মচিহ্ন মুছে তুমি হয়ে গেলে এক দাহ্য পা-ুলিপি
পড়ে থাকি আমি তার ছাইয়ে।
দিনগুলোর কণ্ঠে আজও বেজে ওঠে
তোমার অদৃশ্য পদধ্বনি।
ত্যাজ্য যা কিছু, তাকেই আঁকড়ে বাঁচি
কারণ তুমিই ছিলে সেই ভুল, যা ভুলে যাইনি।
নদীর গর্ভে হারানো নুড়িপাথরের মতো
তুমি রয়ে গেলে মায়ার নিচে চাপা।
জীবনের ব্যাকরণে তোমার নামটা
শুধু এক ব্যতিক্রম- অথচ কেন্দ্রবিন্দু।
রুদ্ধ প্রতিচ্ছবির দিকে তাকালে আজও দেখি,
তোমার ঠোঁটে ভাঙা একটি অসমাপ্ত চুম্বন।
লাবণ্য নয়, প্রেম এক নিষিদ্ধ ভাষা
যা কেবল নীরবতায় উচ্চারিত হয়।
পুনর্লিখনের নীলছাপ
স্ক্র্যাচড সিডি
যার উপর ঘুরছে একই ট্র্যাক
বিকল হয়ে যাওয়া দিন,
রিওয়াইন্ডিং রাত, বিরক্তিকর লোপ!
কেউ বলে ঘড়ির কাঁটা এগোয়,
কিন্তু আমি দেখি,
এটা আসলে ডিলিটেড ফাইল
যা বারবার রিস্টোর হয় ভুল পাসওয়ার্ডে।
পুরনো ক্যাসেটের ফিতার মতো
গুটিয়ে যাচ্ছে স্মৃতি,
আনরেন্ডারড ভিডিও যেন
ল্যাগ করছে ভবিষ্যৎ!
কোথাও হয়তো সময় ঠিকই চলছে,
কিন্তু আমার জন্য সময় ব্রেকডাউন
একটা গ্লিচড ম্যাট্রিক্স,
ফোর জিরো ফোর নট ফাউন্ড মুহূর্ত!
ধুলো বড় হয়ে উঠছে
আলো-ছায়ার খেলা, হ্যালুসিনেশনের মতো গভীর,
দিনের ভেতর ঝুলে থাকা রাতের অসমাপ্ত দীর্ঘশ্বাস।
ত্যক্ত জীবনের গায়ে জড়িয়ে থাকো পলাতক গন্ধের মতো,
নক্ষত্রের কণ্ঠে বাজে তোমার না-বলা প্রেমপত্র।
জ্যামিতির বাইরে এক অসম্ভব রেখায় ছুঁয়ে থাকো আমায়,
বৃত্ত ভেঙে দেখি, তুমি কি সত্যিই ছিলে, না কি নিছক ছায়া?
ললাট জুড়ে ধুলোর মতো জেগে থাকো আমার প্রত্যহে।
তরলের স্বরলিপি
আত্মা নয়, তুমি ছিলে আমার নৈঃশব্দ্যের গোপন প্রতিচ্ছবি ছুঁতে গেলেই ছলকে উঠো।
দীঘির জলে যেমন চাঁদ নামে, তেমনি তুমি নামো আমার অন্ধকারে, প্রতি রাতে।
ত্যাগের ভাষা আমি ভুলেছি, তবু প্রতিবার তোমায় ছেড়ে যাওয়া মানেই নিজেকে ভাঙা।
নিঃশ্বাসে জমে থাকা সব কল্পনা আজও তোমার ছোঁয়ার অপেক্ষায় মৃত ফুল হয়ে আছে।
জাদুকরের মতো তুমি হারিয়ে যাও আর রেখে যাও অস্থিরতার এক অদৃশ্য খাঁচা।
হৃদয়ের পৃষ্ঠা খুলে দেখি, প্রতিটি শব্দে তোমার না-বলা নামের প্রতিধ্বনি।
লঘু নয়, তুমি ছিলে সেই মহাকর্ষ, যা আমাকে বারবার নিজের ভেতরে টেনে নিয়েছে।
