১৪ হাজার কোটির লেনদেন লাক মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৭:৪২ এএম

১৪ হাজার কোটি টাকার মালিক হিসেবে আলোচিত দুদকের মামলার আসামি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান লাক মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার সকালে তাকে কারাগার থেকে এনে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রাকিবুল হায়াতের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

দুদকের তথ্যমতে, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৫৫ কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৫১ টাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়ে চলতি বছরের ৬ জুন মামলা করে দুদক। মামলার তদন্ত পর্যায়ে গতকাল তাকে কারাগার থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে দুদকের সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে গত ২৭ জুলাই তার বিরুদ্ধে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুদকের তথ্যমতে, লাক মিয়া শত শত কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। একজন সাধারণ চেয়ারম্যান হিসেবে গত এক দশকের হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এ ছাড়া তার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সন্দেহজনক লেনদেন করেন। এসব লেনদেন তিনি কীভাবে করেছেন, এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, লাক মিয়া সম্পদের যে হিসাব দিয়েছেন, তা যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অঘোষিত সম্পদের তথ্য মিলেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, গণমাধ্যমে লাক মিয়ার সম্পদের বিশাল পরিমাণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দেশ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ, অনুদানের টাকা আত্মসাৎ এবং দালালি চক্রের মাধ্যমে তিনি এ বিপুল সম্পদের মালিক হন। তার ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার নামে ও বেনামে জমি, বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পেয়েছে সংস্থাটি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রায় ১৪ হাজার ৩৭৬ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৫০১ টাকা ব্যাংকে লেনদেনের তথ্য মিলেছে। যার অধিকাংশের কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত