কুড়িগ্রাম জেলায় এ বছর ১৬ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তবে সেই পাট এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়ে কৃষকের।
বৃষ্টির অভাবে পাট পঁচানোর জায়গা না থাকায় ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে অনেকের পাট। আবার অনেকে বাড়তি খরচে দুরবর্তী এলাকায় ভাড়া জায়গায় হাটু পানিতে করছেন পাট পঁচানোর চেষ্টা। এদিকে বর্ষা মৌসুমের শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি না হলে বিকল্প উপায়ে পাট পঁচানোর কথা ভাবছে কৃষি বিভাগ।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে দেখা মিলছে না বৃষ্টির, বেড়েছে তাপদাহও। এমন পরিস্থিতিতে জলবায়ুর প্রভাব কমানোর পরামর্শ তাদের।
কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলায় ১৭ হাজার ২শ ৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হলেও এ বছর আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত কর্তন করা হয়েছে ৫ হাজার ৫শ হেক্টর জমির পাট।
সরেজমিন দেখা গেছে, বৃষ্টি না থাকার কারনে খাল-বিলে পানি নেই। ঘোড়ার গাড়িতে পাট গাছ বহন করে দুরবর্তী নিচু এলাকার নিয়ে যাচ্ছেন অনেক কৃষক। আবার বৃষ্টির আশায় ক্ষেতে পড়ে থেকেই নষ্ট হচ্ছে অনেক কৃষককের পাট।
জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৪০০ মিলিমিটারের উপর হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ২০০ মিলিমিটার। ফলে কাংখিত বৃষ্টির দেখা না মেলায় পানির অভাবে পাট পঁচাতে পারছেন না কুড়িগ্রামের কৃষকরা। আবার আমন মৌসুম শুরু হওয়ায় ক্ষেতেও রাখতে পারছেন না পাট। এ অবস্থায় পাট কেটে জমিতে ফেলে রেখে বৃষ্টির অপেক্ষায় করছেন অনেক কৃষক। আবার কেউ কেউ বাড়তি খরচে পাট পঁচাতে নিয়ে যাচ্ছেন নিচু এলাকায়।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের পাটচাষী হামিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর পাটের আবাদ খুব ভালো হয়েছে। মনে করেছিলাম ভালোই লাভবান হতে পারবো। এখন পাট কেটে পড়ছি বিপদে জলাশয়ে পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে পারছি না। কি যে হবে আল্লাহ পাক ভালো জানেন। এমন দুর্যোগ হলে আর পাট আবাদ করা যাবে না।
কৃষক আলম মিয়া বলেন, আমার দুই বিঘা জমির পাট কেটে জমিতে ফেলে রাখছি। পাট গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছি না। যদি বৃষ্টি না হয়, আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পাট ইতিমধ্যে কাটা শুরু হয়েছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে জুন ও জুলাই মাসে কাংখিত বৃষ্টি না হওয়ায় খাল-বিল শুকিয়ে গেছে। কৃষকরা পাট জাগ দিতে সমস্যায় পড়ছেন। যদি বৃষ্টি না হয় কৃষকদের বিকল্প উপায়ে পাট পচানোর পরামর্শ দেওয়া হবে।
