মিয়ানমারের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চট্টগ্রাম

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৯:৩৯ পিএম

মিয়ানমারের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল। রাত ৮টা ২৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে ঢাকার আগাঁরগাও থেকে ৪০৯ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্বের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ভূমিকম্পের তীব্রতা ৪ দশমিক ৯ রিখটার স্কেল নির্ধারণ করেছে। তবে এই ভূমিকম্পে এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো ক্ষয়-ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পটি মাটির ১২৫ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হয়েছিল। আর গভীরে উৎপত্তি হওয়ায় দূরবর্তী এলাকায় কম্পন বেশি অনুভূত হলো।

মিয়ানমারের উপর দিয়ে যাওয়া ফল্ট লাইনের পাশে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। এর আগে গত ১৭ জুলাইও এই এলাকায় ভূমিকম্প হয়েছিল।

মিয়ানমারের পাশ দিয়ে প্লেট বাউন্ডারি গিয়েছে উল্লেখ করে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন,‘ মিয়ানমারের উৎপত্তি হওয় ভূমিকম্পগুলোর দিক সম্ভবত বাংলাদেশের দিকে। সেখানে ৪ দশমিক ৮ রিখটার স্কেলের ভূমিকম্প হলেও আমাদের এখানে অনুভব হয়।’

তিনি আরো বলেন,‘ ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের পাশ দিয়ে প্লেট বাউন্ডারি ও ফল্ট লাইন গিয়েছে। আর ভূমিকম্প স্বাভাবিকভাবেই বাউন্ডারি লাইন বা এর থেকে ১০-২০ কিলোমিটার দূরে হয়ে থাকে। আজকের (বৃহস্পতিবার রাতের) ভূমিকম্পটিও একই বাউন্ডারি লাইনের পূর্ব দিকে ছিল।’

কিন্তু চট্টগ্রাম অঞ্চলে কম্পন বেশি হলো কেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত দূরত্ব কম হওয়ায় ও দ্বিতীয়ত মাটির গঠন কাঠামো দুর্বলতার কারণে কম্পন বেশি হতে পারে। তবে এটা ঠিক যে এই এলাকায় স্বাভাবিক যে ভূমিকম্প হয়ে আসছে এই ভূমিকম্পও তেমন।

এর আগে ভূমিকম্প নিয়ে শঙ্কার কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আনসারী সাম্প্রতিক সময়ে দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, মাটির বেশি গভীরে ভূমিকম্পটি উৎপত্তি হলে এর কম্পন অনুভূত অনেক দূর পর্যন্ত যায়। আর এজন্যই গত জানুয়ারি মাটির ১৫৯ কিলোমিটার নিচে ঢাকা থেকে ৪৮২ কিলোমিটার দূরে ৫ রিখটার স্কেলের ভূমিকম্প হওয়ায় ঢাকায় বসে অনুভবের মাত্রা বেশি ছিল।

উল্লেখ্য, সারাবিশ্বে প্রতিবছর দুই হাজার বার ভূমিকম্প হয়। এদের মধ্যে বছরে ১০০ ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হয়ে থাকে। ছোট-বড় ২৭টি প্লেট নিয়ে গঠিত পৃথিবী প্রতিনিয়ত গতিতে থাকার কারণে প্লেটগুলোর প্রান্তসীমায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়ে থাকে। ইন্ডিয়া ও বার্মা প্লেটের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণেই টেকনাফ থেকে হিমালয়ান পর্বতমালা পর্যন্ত গঠিত হয়েছিল হিমালয় পর্বতমালা। সম্প্রতি রাশিয়ার কামচাটকায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত