জাবিতে দেশের প্রথম জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ‘অদম্য-২৪’ উদ্বোধন 

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৯:৪০ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দেশের প্রথম জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ‘অদম্য-২৪’ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনে স্তম্ভটি উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধনের পর একটি আলোচনা সভা এবং জুলাই আন্দোলনের দুইটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমিনা ইসলাম।

আলোচনা সভায় শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, “জুলাইয়ের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তার অদম্য অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে মুক্তির পথে এগিয়ে নিতে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেছেন। সাড়ে পনেরো বছরের মুজিববাদী শাসন, ফ্যাসিবাদী শাসন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘর, নির্যাতনের যে স্টিমরোলার চালিয়ে দেওয়া হয়েছিলো তা থেকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশের ছাত্ররা, শ্রমজীবী মানুষেরা জীবন দিয়েছেন এবং বাংলাদেশকে মুক্ত করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ‘অদম্য-২৪’ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে তা না, এর মাধ্যমে আবার আমাদের সবার একতাবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয়েছে।” 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকালীন সময় পার করছে। বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে যার বিরুদ্ধে একমাত্র এক বছর আগে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিলো সেই ঐক্যই বাংলাদেশে বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের দিকে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে। বিচার প্রশ্নে স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনোভাবেই বিচারের ক্ষেত্রে দুর্বলতার স্কোপ রাখবে না। খুবই দ্রুত আপনারা দেখবেন কয়েকটি বিচারের কাজ দৃশ্যমান হবে। সংস্কারের কাজও এগিয়ে চলেছে।” 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. কামরুল আহসান বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে বাংলাদেশের কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা সংগঠিত হয়ে এখানে ভিতরে যে অসাম্য, বৈষম্য ছিলো সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়েছি। সংঘবদ্ধ আন্দোলনে আমরা পাঁচ তারিখে বিজয় অর্জন করেছি এর মানে এই না যে অন্য কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনারা আমাদের স্বর শুনবেন না। আজকের এই স্মৃতি স্তম্ভ উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা স্মরণ করিয়ে দিলাম আবার যদি বাংলাদেশে কোনো অশান্তি দেখি, বৈষম্য দেখি এবং পরাজয়ের কোনো কালো মেঘ দেখি তাহলে জাহাঙ্গীরনগরের সংগ্রামীরা আবারো তাদের কার্যক্রম শুরু করবে এবং গোটা বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিবে বৈষম্যবিরোধী সমাজ প্রতিষ্ঠায়।”

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক শামসুল আলম, জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত