ঘোষিত মুদ্রানীতি বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৫৬ এএম

বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখায় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগের পাশাপাশি সার্বিক শিল্পায়ন কার্যক্রমে স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। ফলে ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-ডিসেম্বর) প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। যেখানে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

ঢাকা চেম্বার এই মুদ্রানীতির প্রতিক্রিয়ায় বলছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬.৪ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ডিসিসিআই মনে করে, ব্যবসায়িক পরিবেশের অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলার অস্থিতিশীলতা, সীমিত জ্বালানি সরবরাহ এবং সর্বোপরি কঠোর মুদ্রানীতির কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি আরও তীব্র হচ্ছে।

এ অবস্থায় খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৩ লাখ কোটি টাকা, যা মোট বকেয়া ঋণের প্রায় ২৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, এটি আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে, সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণœ করছে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার।

ব্যবসায়িক আস্থার এই নিম্নমুখিতা সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নীতিসুদ হার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ডিসিসিআইর মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ সুদের হার বিশেষ করে ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং উৎপাদনশীল খাতের ওপর অতিরিক্ত ঋণের ভার চাপিয়ে দিচ্ছে, যা অর্থনৈতিক গতিশীলতা ব্যাহত করছে। নতুন মুদ্রানীতিতে আগামী ছয় মাসের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ, যা পূর্ববর্তী নীতিতে ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এর বিপরীতে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ২০ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা অর্থনীতিতে আর্থিক চাপ বৃদ্ধি করবে, সেই সঙ্গে করদাতাদের ওপর বোঝা বাড়বে, পাশাপাশি বেসরকারি খাতের ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ আরও সংকুচিত করবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে সুদের হার হ্রাস এবং ঋণের শর্তাবলি সহজ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে ঢাকা চেম্বার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত