মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭০টির বেশি দেশের ওপর নতুন শুল্ক হার ঘোষণা করেছে। দেশভেদে এই শুল্ক সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৪১ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য শুল্ক হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ শতাংশ।
ভারতীয় পোশাক, গয়না ও রপ্তানি খাতে নতুন শুল্কের প্রভাবে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এতে ক্ষুব্ধ, কারণ এতে রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ভারত মূলত পোশাক, ওষুধ, গয়না ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে। নতুন শুল্কের ফলে পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে। ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, প্রতিযোগী দেশগুলো যেমন বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম কম শুল্কের সুবিধা পাচ্ছে, যা ভারতের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
গয়না খাতেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম হীরা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র অবস্থিত, এবং প্রতি বছর ১০ বিলিয়ন ডলারের গয়না যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। শুল্ক বৃদ্ধির ফলে এই খাতের অনেক কারিগর তাদের জীবিকা হারানোর শঙ্কায় রয়েছে। এছাড়া, শুল্ক ঘোষণার পর ভারতের শেয়ার বাজারেও ধস নেমেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকার কৃষক, শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও শিল্প রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারত ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, যা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, পাকিস্তান ১৯ শতাংশ শুল্ক হারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের জ্বালানি, খনিজ ও আইটি খাতে বিনিয়োগ করবে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা এই শুল্ক হারকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এতে পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার ওপর ৪১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা সবচেয়ে বেশি। এরপরই আছে লাওস ও মিয়ানমার, যাদের জন্য শুল্ক হার ৪০ শতাংশ।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের এখন সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কোনো তাড়াহুড়ো করে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি।
