এমন একটি সফল দরকষাকষির জন্য সরকারকে অভিনন্দন। বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য পাল্টা শুল্কের পরিমাণ ২০ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে। এটি আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক। কারণ আমাদের যেসব প্রতিযোগী দেশ আছে তাদের মধ্যে ভারতের পাল্টা শুল্ক ২৫ শতাংশ। ফলে তাদের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে। আর অন্য প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ। ফলে ক্রেতাদের বাংলাদেশ ছেড়ে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার তেমন সুযোগ থাকবে না। কারণ ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করলে বাংলাদেশের থেকে বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে না। তাছাড়া পোশাক শিল্পে ভিয়েতনামের সক্ষমতাও সংকুচিত হয়ে আসছে। আর ভারতের শুল্ক আমাদের তুলনায় বেশি হওয়ায় সেখানে ক্রেতারা যাবে না। এতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি উইন-উইন অবস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে।
তৈরি পোশাক শিল্পে প্রধান রপ্তানিকারক দেশ হচ্ছে চীন। কিন্তু ধীরে ধীরে চীনে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সেখানকার মজুরি হার অনেক বেড়ে গেছে। তাছাড়া চীনের শুল্ক বাংলাদেশের তুলনায় ১০ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশের জন্য নতুন করে সুযোগ সৃষ্টি হলো বলেই মনে করি। তবে আগের ১৫ এবং বর্তমান ২০ মিলে মোট যে ৩৫ শতাংশ শুল্ক এখন পরিশোধ করতে হবে, তার একটি অংশ ক্রেতারা বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করতে পারে। এক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের জোটবদ্ধ থাকতে হবে যে, কোনোভাবেই এই শুল্কের ভার যেন রপ্তানিকারকদের ওপর চাপানোর সুযোগ না পান ক্রেতারা।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক মার্কিন বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে যাতে পুরোপুরি শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে দরকষাকষি করতে হবে। কারণ এ ধরনের সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র দিয়ে থাকে। কাজেই বাংলাদেশ যাতে এই সুযোগটি নিতে পারে সেটি নিশ্চিত করার জন্য দরকষাকষি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে বাণিজ্য উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি আরও কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। এ সময়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে কাজ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
সভাপতি, বিকেএমইএ
