স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের সুপারিশগুলো জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৩৮ এএম

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের মূল সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন এবং ২০২৫ সালের জুলাই সনদে তা অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যসহ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য তারা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

গত শুক্রবার ৬ সদস্য ও বিশেষজ্ঞ এই খোলা চিঠি লেখেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন কমিশনের সদস্য ও একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতকে জাতীয় উন্নয়নের মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে ধরে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রশাসনিক ফাঁকফোকর এবং যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব এই অর্জনগুলোকে ব্যাহত করছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো স্বাস্থ্য খাতের শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য একটি কৌশলগত ও সময়োপযোগী রূপরেখা প্রদান করেছে। এগুলো শুধু সেবা সম্প্রসারণ বা মানোন্নয়নের সুপারিশ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও পদ্ধতিগত রূপান্তরের বিস্তৃত কাঠামো উপস্থাপন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেন, সময়োপযোগী ও কৌশলগত বাস্তবায়ন না হলে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সুপারিশগুলো শুধু কাগজেই রয়ে যাবে, বাস্তবে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

চিঠিতে জাতীয় অগ্রাধিকারে অন্তর্ভুক্ত একটি সময়পোযোগী রোডম্যাপ তৈরির ওপর জোর দিয়ে বলা হয়, এসব সংস্কার জুলাই সনদ ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত করলে কাঠামোগত রূপান্তরের প্রতি সরকারের আন্তরিক ও ভবিষ্যৎমুখী প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকালীন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, কিছু কার্যক্রম সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে, যা এখনই শুরু করা সম্ভব।

চিঠিতে তিনটি অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। এর মধ্যে একটি স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের প্রসঙ্গে তারা বলেন, একটি স্বাধীন, গণজবাবদিহিমূলক এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্বাস্থ্য কমিশন গঠন যা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত রূপকল্প ও বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দেবে। এই প্রতিষ্ঠান হবে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য খাত রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি।

দ্বিতীয় পদক্ষেপে সর্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গঠনের কথা বলা হয়। সেখানে উল্লেখ করেন শহর ও গ্রামে বাধ্যতামূলক রেফারেল ব্যবস্থাসহ কার্যকর, মানসম্পন্ন ও বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালু করতে হবে যা হবে নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তি।

তৃতীয় পদক্ষেপে উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। সেখান তারা বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সময়বদ্ধ, দায়িত্বনির্ভর কমিটি গঠন করতে হবে যা এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করবে এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সরাসরি এর তত্ত্বাবধান করবে।

চিঠিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপগুলো আগস্ট-২০২৫ এর মধ্যভাগে শুরু করা যায়, তবে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ/অধ্যাদেশ জারি সম্ভব এবং ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই জনগণের সামনে কাঠামোগত এই রূপান্তরের দৃশ্যমান অগ্রগতি উপস্থাপন করা যাবে।

তাদের মত, এই উদ্যোগগুলো যদি ২০২৫ সালের আগস্টের মধ্যেই শুরু করা যায়, তবে ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও অধ্যাদেশ জারি করতে পারবে এবং ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই প্রস্তাবকে শুধুই প্রশাসনিক উদ্যোগ না বলে এর পেছনে জাতির প্রতি একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে বলেও মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, আগস্টে সংস্কার উদ্যোগ শুরু হলে তা গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতির ভবিষ্যতের পথে এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত হবে।

চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়, প্রধান উপদেষ্টা সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতের গঠনমূলক পরিবর্তনের ভিত গড়ে তুলবেন।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পথিকৃত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী, ক্লিনিক্যাল নিউরোসায়েন্স সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক নায়লা জামান খান, আইসিডিডিআর,বির সাবেক প্রধান চিকিৎসক ডা. আযহারুল ইসলাম খান এবং অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত