হাওরে লাল গালিচায় হেঁটে ফের আলোচনায় বিভাগীয় কমিশনার 

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৩৩ পিএম

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে নদী থেকে তীরে উঠার পথে লাল গালিচায় সংবর্ধনা পেলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়। 

এর আগেও গেল কয়েক মাস পূর্বে নেত্রকোনা শহরের বকুলতলায় একটি অনুষ্ঠানে বৃষ্টিতেই লাল গালিচায় সংবর্ধনা নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।  

শনিবার (২ আগস্ট) নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরীতে বর্ষাকালে লাল গালিচায় সংবর্ধনা নিয়ে সমালোচনাটা বেশি হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, একে তো বর্ষাকাল তার উপরে হাওরে কাদাপানি থাকে সব সময়। সেখানে এমন লাল গালিচা বিছানোর নজির নেই। 

এটা দেখে মনে হচ্ছে ব্রিটিশ আমলেই আমরা। সাধারণ জনগণের টাকা ফেলার জায়গা পাচ্ছে না প্রশাসন। হাওরের মানুষ সাদাসিধা কৃষক। 

তাদের দাঁড় করিয়ে লাল গালিচায় সংবর্ধনা দিলেন বিভাগীয় কমিশনারকে। এটা তো এক ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার।  

খালিয়াজুরী গণমাধ্যম কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার খালিয়াজুরী উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের লোকজনের সাথে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা পরিষদের হলরুমে এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এম, এ, কাদেরের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বনানী বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুহিদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুখময় সরকার। 

বক্তব্য রাখেন উপজেলা বি, এন, পি সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ স্বাধীন, জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মা. রহুল আমিন, বি, এন, পি নেতা মো. মাসুদ রানা, নাজমুল হক আরিফ, মির্জা জিয়া উদ্দিন, রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. হাবিবুল্লাহ, উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল, মৎস কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ।  

পরে সর্বশেষে সিদ্দিকুর রহমান বালিকা বিদ্যানিকেতনের প্রতিবন্ধী ছাত্রী মিতালী রাণী সরকারকে চলাচলের জন্য একটি হুইল চেয়ার ও নগদ ২০ হাজার টাকা হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সকল অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে নেত্রকোনা থেকে গাড়ি করে মদন পর্যন্ত যান। সেখান থেকে স্পীডবোডে চরে খালিয়াজুরী ঘাটে পৌঁছালে সেখানে লাল গালিচা বিছানো হয়। এরপর থেকে রবিবার ফেইসবুকে বিভিন্ন জনের আইডিতে ছবিসহ পোস্টে নানা সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে জানতে বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

এ ব্যাপারে লাল গালিচা এবং সমালোচনার বিষয়ে আয়োজক খালিয়াজুরী উপজেলার নির্বাহীর (অতিরিক্ত) দায়িত্বে থাকা এম এ কাদেরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি একটা মিটিংয়ে রয়েছেন পরে বলবেন।   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত