সাড়ে ৭ হাজার কোটি আত্মসাৎ সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২২ এএম

নিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া টেন্ডার ও বিল প্রস্তুত করে নিজেরা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ বরাদ্দ দেন। এভাবে সরকারি উন্নয়ন তহবিল ও সিটি করপোরেশনের রাজস্ব তহবিল থেকে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

দুদকের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে দুদক অনুসন্ধানে নামে। সে সময় তার এবং তার পরিবারের নামে থাকা অন্তত ৩২টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। জব্দ করা হিসাবগুলোতে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কটূক্তির অভিযোগে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি শেষে আবারও সক্রিয় হতে চাইলে দলীয় মনোনয়ন পাননি।

সাবেক মন্ত্রী উশৈ সিং দম্পতির নামে মামলা : অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী এবং বান্দরবানের সাবেক সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈ সিং এবং তার স্ত্রী মে হ্লা প্রু-এর নামে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক। গতকাল দুদকের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাবেক এমপি বীর বাহাদুর উশৈ সিং ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬৪ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জন নিজ ভোগদখলে রাখা এবং তার নামে থাকা ১৩টি ব্যাংক হিসাবে ৫৮ কোটি ৪০ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৭ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে।

অন্য মামলার এজাহারে বলা হয়, উশৈ সিংয়ের স্ত্রী মে হ্লা প্রু ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগদখলে রাখা এবং তার ৬টি ব্যাংক হিসাবে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ৮১ হাজার ৮১৪ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে।

দুদকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বীর বাহাদুর এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধান চলাকালে আদালতের আদেশে বীর বাহাদুর, তার স্ত্রী মে হ্লা প্রু এবং তাদের তিন সন্তানের বিদেশ গমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত