মুন্সীগঞ্জে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কে ধানের চারা রোপন গ্রামবাসীর

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪৩ পিএম

সড়ক যেন চাষের জমি। সামান্য বৃষ্টিতে হলেই হাটু পানিতে কাদাঁমাটিতে একাকার সড়ক। আর বর্ষা মৌসুমে সড়কে চলাচল যেন দুর্বিষহ এক যাত্রা। আবার দীর্ঘদিন ধরেই হচ্ছে না সংস্কার। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া থেকে রামকৃষ্ণদি গ্রাম পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার সংস্কার না হওয়ার প্রতিবাদে সড়কে ধানের চারা রোপন করেছেন গ্রামবাসী। একই সঙ্গে করেছেন মানববন্ধন। 

সোমবার (৪ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে সর্বস্তরের গ্রামবাসীর ব্যানারে উপজেলার কুচিয়ামোড়া কলেজ গেট, গোডাউন বাজার, পাথরঘাটা ও রামকৃষ্ণদি গ্রামে আলাদা আলাদা ভাবে একযোগে এ মানববন্ধন করে। ওই মানববন্ধনে গ্রাম গুলোর শতশত নারী-পুরুষ ও স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এসময় ও কুচিয়ামোড়া ও পাথরঘাটা গ্রামের ওই সড়কে ধানোর চারা রোপন করে সংস্কার না হওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। 

উপজেলার পাথরঘাটা শাহী বাজারের ব্যবসায়ী শামীম সরদার বলেন, “আমাদের এলাকার সন্তান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তার বাড়ি এই সিরাজদীখান। তার এলাকার রাস্তা যদি এই অবস্থা হয় তাহলে সেটা খুব লজ্জাজনক।” 

স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর আহমেদ বলেন, “সড়কে থাকা বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দের কারণে প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। আমি নিজেই একদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার একটি গর্তে পড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলাম। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল এখন যেন আত্মহননের শামিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলতে হয়।”

লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন খান খোকন বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সড়ক সংস্কারে কাজে আসতে পারছি না। এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের মুখ দেখেনি। বারবার দাবি জানিয়েও কাজ না হওয়ায় অবশেষে মানববন্ধনের পাশাপাশি ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ জানালেন গ্রামবাসী।”

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আসিফ উল্লাহ বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমরা রাস্তাটি সংস্কার করে ছিলাম। কিন্তু আশপাশের ইটভাটা ও মাটি বহনকারী মাহিন্দ্রা এবং ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাটি অল্প সময়েই আবার নষ্ট হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অফিস থেকে টেকনিক্যাল টিম পাঠিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে শুধু এলজিইডির কাজ করলেই হবে না,স্থানীয়দের সচেতনতা এবং সহযোগিতাও প্রয়োজন। রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ না হলে পুন:সংস্কারের পরও একই অবস্থা ফিরে আসবে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত