ওমান প্রবাসী বাহারের আহাজারি

আমার সব কেড়ে নিল কে?

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪৩ পিএম

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম চৌপল্লী গ্রামের কাচারিবাড়ি এলাকার ওমান প্রবাসী বাহার মা সন্তান ও স্ত্রীসহ ৭ জন স্বজনকে হারিয়ে এখন অনেকটাই পাগল প্রায়। মাটিতে লুটিয়ে বুক চাপটিয়ে আহাজারি করতে দেখা যায় বাড়ির আঙ্গিনায় বাহারকে। এ সমসয় সে বলথে থাকে আমার সব কেড়ে নিল কে?

বাড়ির উঠানের পাশেই তার দুই তলা পাকা বিল্ডিং বসতঘর। সুখের সন্ধানে পাড়ি জমান ওমানে। টাকা কামিয়েছেন ঘর করেছেন পরিবারের এসেছে নতুন একটি মুখ। দুই বছরের মেয়ে মীমকে দেখেছেন প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার রাতে বিমান বন্দরে। কোলে নিয়েছেন একবার তিনি। তিনি আরো বলেন, আমিতো সব হারিয়েছি কি করে বাঁচব আমি জানি না।

লক্ষ্মীপুরের প্রবেশ মুখে মৃত্যুর জমদুত হামলা চালায় মাইক্রোবাসে। অভিযোগ রয়েছে গাড়িচালক এনায়েতুল্লাহ আকবর (২৪) ঘুমাচ্ছন্ন। আচমকা মাইক্রোবাসটি পরে যায় রাস্তার পাশের খালে। দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ৪ জনের জীবন রক্ষা পেলেও একই পরিবারের সাতজনকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় মা মুরশিদা বেগম, স্ত্রী লাবনী আক্তার, মেয়ে রেশমি আক্তার ও নানী ফয়জুন নেছাসহ ছোট ভাইয়ের স্ত্রীও সন্তানসহ ৭ জনকে হারালাম। আমার বেঁচে থেকে লাভ কি?

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন বাহারের স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানি ফয়জুন নেছা (৭০), বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫), এবং ভাতিজি রেশমি আক্তার (৯) ও লামিয়া আক্তার (৮)।

ওমান প্রবাসী মো. বাহার উদ্দিন আড়াই বছর পর দেশে ফিরছিলেন। পরিবারের সবার মাঝে ফেরার আনন্দে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছিলেন 'স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার'। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গেছে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায়। বাহার স্ত্রী, মেয়ে ও নানিসহ ছোট ভাইয়ের স্ত্রীও সন্তানসহ ৭ জনকে হারিয়ে একেবারে অনেকটাই নিঃস্ব। বুধবার বিকাল ৫টায় সদর উপজেলার পশ্চিম চৌপল্লী গ্রামের কাচারিবাড়ি এলাকায় পারিবারিক কবরে তিন শিশুসহ ৬ জনকে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়। গ্রামের বয়োবৃদ্ধ অনেকেই বলেন- উত্তর জয়পুর ইউনিয়নে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘেটনি। একই পরিবারের ৭ জন হারানোর ঘটনা দুই ইউনিয়ন চৌপল্লী ও চর মোহাম্মদ নগর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। বুধবার বিকালে কবরের দিকে যখন একে একে মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় তখন পুরো বাড়িতে কান্নার রোল পরে যায় স্বজনদের।

বাহারের প্রতিবেশী চৌ পল্লী গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। বাহার তিন মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসছে। পরিবার পরিজন নিয়ে পার করবে এ সময়। কিন্তু বিধাতা তার স্বপ্ন পূরণ করেনি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত