বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়ে আগামী ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছে।
এর আগে গত ২৮ জুলাই ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে শুনানি করেন। এরপর দুটি ধার্য তারিখে কারাগারে থাকা আসামিদের পক্ষে অব্যাহতির আর্জি জানিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ জুলাই শুনানি শেষে ৬ আগস্ট (গতকাল) অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল অভিযোগ গঠনের আদেশ জারি হয়।
এর মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৬ জুলাই বেরোবির সামনে পার্ক মোড়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে গুলি করে পুলিশ। শহীদ আবু সাঈদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। আবু সাঈদ হত্যার পর সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সোচ্চার হন। এর ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। আবু সাঈদ হত্যার তদন্ত শেষে গত ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এরপর ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) মো. হাসিবুর রশীদসহ পলাতকদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এ মামলায় ছয়জন আসামি কারাগারে আছেন। তারা হলেন বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ, আনোয়ার পারভেজ আপেল ও রাফিউল হাসান রাসেল। অন্য ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন, উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে। তিনি বলেন, এ মামলায় ৫০ জনের বেশি সাক্ষীর তালিকা দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ, প্রত্যক্ষদর্শী, জব্দ তালিকা ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এই ক্যাটাগরির সাক্ষী রয়েছেন।
তিনি জানান, এই হত্যা মামলায় ২৪ জন পলাতক আসামির কেউ এখনো ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি।
