চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে করুণ চিত্র পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আস্করিয়া সড়কে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কজুড়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সিএনজি অটোরিকশা, রিকশা কিংবা সাধারণ যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
অসুস্থ রোগী, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন শত শত মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করছে। কিন্তু সড়কের করুণ অবস্থা তাদের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
অন্যদিকে, আস্করিয়া সড়ক পার হয়ে সরল ইউনিয়নের কাহারঘোনা-মিনজীরিতলা সড়কও রয়েছে একই দুরাবস্থায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালের জুন মাসে এই ১.৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয় এবং কাজটি পায় ফটিকছড়ির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্রিউরীলিপ এন্টারপ্রাইজ।
প্রথমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের সব ইট তুলে দু’পাশে রাখলেও কিছু অংশে কংক্রিট ঢালাই করে কাজ বন্ধ রেখে সড়কটি ফেলে রাখে। দীর্ঘ পাঁচ মাসেও কাজ শুরু না হওয়ায় সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে যানচলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এক গর্তে ভরা পথে। প্রতিদিন শতাধিক সিএনজি ও নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও যানজট, বিকল হওয়া ও দুর্ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটনা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, ‘এই সড়কের কাজ পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শুরু হবে।’ তবে কবে নাগাদ তা শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেননি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারদের অনিয়ম ও উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের গাফিলতির কারণেই বাঁশখালীর অধিকাংশ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ ঠিকাদারদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণে তৎপর নন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আশেক এলাহী বলেন, ‘এ সড়কের দু’পাশে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি। এছাড়া প্রতিদিন এলাকার শতশত শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়িগুলোকেও মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়। পৌরসভার বাসিন্দা হয়ে আমরা নিজের টাকায় কর দিচ্ছি, অথচ আমাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই, রাস্তাটা যেন অভিশপ্ত হয়ে গেছে।’
বর্ষাকালে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সড়কের পাশে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন দখল করে রাখায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না। এতে প্রতিদিন ময়লা পানিতে পড়ে কাপড় নষ্ট হওয়া এবং দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এ বিষয়ে বাঁশখালী পৌরসভার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, ‘এই সড়কের ৫.৫ কিলোমিটারের জন্য প্রায় ১৩–১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অধিকাংশ স্থানে কাজ হয়েছে। তবে আস্করিয়া এলাকায় ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। বাড়ি-ঘর, দোকানপাট ও পাকা ওয়েল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীকে বারবার অনুরোধ করেও জায়গা ছাড়ানো যাচ্ছে না। এছাড়া বর্ষাকাল থাকায় কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে।’
২০০২ সালে গঠিত বাঁশখালীর জলদী ইউনিয়নকে আলাদা করে তৈরি হওয়া পৌরসভাটি বর্তমানে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। এখানে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বাস করেন। তবে সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক এলাকা পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়। অধিকাংশ সড়ক কাঁচা এবং যেগুলোর কাজ শুরু হয়েছে, সেগুলোরও কাজ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
