কুয়াকাটা

নিখোঁজ জেলের মরদেহসহ ১১ দিন পর সৈকতে ভেসে এলো ডুবে যাওয়া ট্রলার

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০১:০৬ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ভেসে এসেছে ‘এফবি সাগরকন্যা’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার এবং এ ঘটনায় নিখোঁজ জেলে মো. ইদ্রিস (৫০)-এর মরদেহ। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুয়াকাটা সৈকতের ডিসি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ভেসে আসা ট্রলার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

নিহত ইদ্রিস পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মধুখালী গ্রামের বাসিন্দা। মরদেহের পরনে থাকা লাল গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করেন ভাতিজা সাগর, যিনি ঘটনার দিন একই ট্রলারে ছিলেন।

সাগর বলেন, ‘২৬ জুলাই আমরা একসঙ্গে সাগরে যাই। হঠাৎ ঝড়-ঢেউয়ে ট্রলারটি ডুবে গেলে চাচা ইদ্রিস নিখোঁজ হন। আজ যেভাবে লাশ পেয়েছি, ঠিক সেই পোশাকেই চাচা সাগরে নেমেছিলেন।’

২৬ জুলাই সকালে মহিপুর মৎস্যবন্দর থেকে ১৫ জেলে নিয়ে গভীর সমুদ্রে রওনা দেয় ট্রলারটি। পরদিন সকালে শেষ বয়া থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার গভীরে ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

চারদিন সাগরে ভেসে থাকার পর ৯ জন জেলে জীবিত উদ্ধার হন। ৬ জন নিখোঁজ ছিলেন, তাদের মধ্যে গত ১ আগস্ট কুয়াকাটার মীরাবাড়ি সৈকত থেকে নজরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার মিলল ইদ্রিসের মরদেহ।

কুয়াকাটা সৈকতের স্থানীয় জেলে সোহেল মাঝি বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে সৈকতে গিয়েই দেখি একটি ট্রলার কিনারায় ভাসতেছে এবং ঢেউ পিটাচ্ছে কিছুক্ষণ পরে বোটের মধ্যে থেকে একটি লাশ বেরিয়ে আসে।’

ট্রলার মালিক কিশোর হাওলাদার জানান, ‘৯ জন উদ্ধার হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন গিয়াস উদ্দিন (৪৫), নোয়াখালী এবং আবদুর রশিদ, মহিপুর। এছাড়াও হাসান নামে এক জেলেকে অন্য একটি ট্রলার উদ্ধার করে এবং কালাম বাবুর্চির লাশ অপর একটি ট্রলার উদ্ধার করে।’

জেলেদের ভাষ্যমতে, মাছ ধরার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ঝড় ও প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। একজন জেলে সঙ্গে সঙ্গেই নিখোঁজ হন এবং পরবর্তী সময়ে আরও ৫ জন ঢেউয়ে ভেসে যান।

নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ট্রলার ও একটি লাশ উদ্ধার করি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত