বাস চাপায় নিহত ৩: সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে 

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৫৬ পিএম

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদ, নিরাপদ সড়ক, দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের শান্তিগঞ্জ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তারা এ সড়কে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। এ সময় তারা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে চলাচলরত বাসের ফিটনেস ও লাইসেন্সসহ কাগজপত্র দেখে গাড়ি আটক করেন।  

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, “ইতিমধ্যে ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখনো ঘাতক বাস চালককে আটক করেনি প্রশাসন। আমাদের বোন মারা গিয়েছে। সে এখন কবরে, অথচ প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আমাদের প্রশ্ন, তারা করছেটা কী? আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, যদি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।” 

এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড দাবি করে অনতিবিলম্ব হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করা হয়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

শিক্ষার্থী তমাল হোসেন বলেন, আমরা আজ কর্মসূচিতে পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করি, তারা যেনো তাৎক্ষণিকভাবে আমাদেরকে নিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ফিটনেসবিহীন পরিবহনকে আটক করে মামলা দেয়। কিন্তু পুলিশ দাড়িয়ে দাড়িয়ে তামশা দেখছে। কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এরপর আমরা বাধ্য হয়ে নিজেরা এই সড়কের বাস গুলোর ফিটনেস ও লাইসেন্স দেখার চেষ্টা করি। কিন্তু ১০ বাসের মধ্যে ১০টায় বাসেরই কাগজপত্র ঠিকঠাক পায়নি। এদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি সড়ক নিরাপদ চাই।  

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী তমাল হোসেন, জাকারিয়া নাইম, রাহাত আহমেদ, আশরাফ হোসেন প্রমুখ। সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের হুমায়ুন আহমদ, শান্ত রায়, আমিন উদ্দিন, মো. লিটন, আপন আহমেদ, তামিম আহমেদ, পূর্বা তালুকদার, তুলি সরকার, সুমাইয়া আক্তার, তাহমিদা জাহান রবিন, বুশরা আক্তার। 

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার দুপুরে জেলার শান্তিগঞ্জে অবস্থিত সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট থেকে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে সিএনজি দিয়ে শহরে ফিরছিলেন দুই শিক্ষার্থীসহ ৫ জন। ফেরার পথে সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় বিপরীত মুখি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই শফিকুল ইসলাম (৫০) ও আফসানা জাহান খুশী (১৭) নামের দুইজনের মৃত্যু হয়। এ সময় স্থানীয়রা গুরুত্বর আহত ৩ জনকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠালে স্নেহা (১৮) নামের অপর শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।পরে আরও দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের এম জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  

নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শহরের আরপিনগর এলাকা দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে আফসানা খুশী ও সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর স্নেহা চক্রবর্তী, সে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের বিপুল চক্রবর্তীর মেয়ে। অপরজন শহরের আলীপাড়ার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম।

এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুকান্ত সাহা দেশ রূপান্তরকে জানান, আমি এখন ঘটনাস্থলে আসছি। তারা তো আসলে নিরাপদ সড়কের জন্য মানববন্ধন করছে, সবার সঙ্গে কথা বলে আমরা দ্রুত তাদের দাবি গুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। আমরা নিজেরাও নিরাপদ সড়ক চাই, এ বিষয়ে আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত