গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। এ নিয়ে মামলায় মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। শুক্রবার রাতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— কুমিল্লার হোমনা থানার অনন্তপুর এলাকার হানিফ মিয়ার ছেলে শাহজালাল (২৫), পাবনার পাঁচবাড়িয়া এলাকার কিয়ামুদ্দিন হাসানের ছেলে মো. ফয়সাল হাসান (২৩) ও সুমন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত শাহজালালকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানাধীন চর মসলন্দ মোড়লপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ফয়সালকে গাজীপুর মহানগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দনা এলাকার মাহবুব স্কুল মোড়ের একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি সুইচগিয়ারসহ সুমন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জাহিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। পুলিশের ধারণা, ছিনতাই বা পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
এর আগে, র্যাব ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান ও তার স্ত্রী গোলাপী, আল আমিন ও স্বাধীন।
জিএমপির উপকমিশনার (ডিসি) রবিউল হাসান জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। ফুটেজে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা, চাপাতি ও ছুরি হাতে যাদের দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সেই নারী ও যুবকরাই রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম গুরুত্ব সহকারে তদন্তে নামে। ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত এখনই জানানো সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি মার্কেটে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮)-কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। তিনি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন।
নিহত তুহিন ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গাজীপুর শহরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ঘটনার পর বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী নিহত তুহিনের বড় ভাই মো. সেলিম।
