খুলনার পাইকগাছায় বজ্রপাতপ্রবণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তিন হাজার তালবীজ রোপণ করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। আজ শনিবার উপজেলার কপিলমুনির তালতলা ও গোয়ালবাথান এলাকায় এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন।
বিএনপি সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৫ বছরে ৫০ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই তালের বীজ রোপণ করা হয়।
আয়েজকরা জনান, উপকূলীয় সুন্দরবন সংলগ্ন পাইকগাছা-কয়রার প্রকৃতি ক্রমশ প্রতিকূল হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত প্রভাবে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস,পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, ভেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকায় পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি, জলাবদ্ধতা, খরা, অতিবৃষ্টির কারণে মাছের ঘের, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বৃক্ষ শূন্য এই অঞ্চলে বজ্রপাত রীতিমতো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। বজ্রপাতের মৌসুম শুরু হলে ঘের,মাছ ধরা,কৃষিসহ উন্মুক্ত স্থানে কাজ করা এনেকটা ভীতিকর হয়ে ওঠে। বজ্রপাতে প্রাণহানি বেড়ে চলেছে আশংকাজনক হারে।
তারা জানান, তালগাছ প্রাণী জগতের পরম বন্ধু। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বজ্রপাত থেকে রক্ষার বড় শিখন্ডি তালগাছ। ভূমিক্ষয়, ভূমিধস রোধ, ভূগর্ভস্থ পানির মজুত ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অন্যতম ভূমিকা পালন করে তালগাছ। তালগাছে কার্বনের স্তর বেশি থাকায় তা বজ্রপাত নিরোধে সহায়তা করে।
বাসস চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন তালের বীজ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করে বলেন, জনগণের সবচেয়ে প্রিয় নেতা, দেশের নির্ভরযোগ্য কান্ডারী তারেক রহমান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পাঁচ বছরে ৫০ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারাদেশের সাথে সবচাইতে পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি প্রবণ এই অঞ্চলে প্রকৃতি বান্ধব তালবীজ রোপণ করা হচ্ছে। প্রকৃতি ও আগামী প্রজন্মের জন্য স্বেচ্ছায় এসব বীজ রোপণ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি করার কোনও বিকল্প নেই ।প্রকৃতি দিয়েই প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে।' ভবিষ্যতে এই ধরণের কাজে সহয়তা অব্যহত রাখবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তালবীজ রোপণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ জাকির হোসেন ও শহিদুল ইসলাম হাওলাদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডা. আব্দুল মজিদ,বণিক সমিতির আহ্বায়ক শেখ আনারুল ইসলাম, যুবদলের উপজেলা আহ্বায়ক তহিদুজ্জামান মুকুল,বিএনপি নেতা আবুল হোসেন, মাসুদুজ্জামান বাবু, তুষার কান্তি মন্ডল, মানবাধিকার সংগঠক ও সাংবাদিক এস এম পারভেজ, অলিউল ইসলাম, কপিলমুনি প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক এইচ এম শফিউল ইসলাম, জাহিদ আলম, শাহ আলম, মেম্বার রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম প্রমুখসহ স্থানীয় জনগণ।
