রাজধানীর ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতকের হাত ভাঙার ঘটনায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না এবং চিকিৎসায় অবহেলার দায়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর আগে, শিশুটির বাবা মো. নূরের সাফাহ্ রিট দায়ের করেন।
জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল সাত দিনের নবজাতকের শারীরিক অসুস্থতার কারণে মিরপুরের বাসিন্দা নূরের সাফাহ’র সন্তান ডেলটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এ কে খাইরুল আনাম চৌধুরীর অধীনে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে নবজাতকের হাত ভাঙার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
নূরের সাফাহ্ জানান, ৩ এপ্রিল নবজাতকের উচ্চ বিলিরুবিনের কারণে ফটোথেরাপির জন্য হাসপাতালের ভর্তি করানো হয়। ভর্তি হওয়ার পর দীর্ঘসময় নিরবচ্ছিন্ন থেরাপির জন্য তাদের বলা হয় দুই থেকে তিনবার ব্রেস্ট ফিডিং করতে দিতে হবে এবং বাকি সময় ব্রেস্ট পাম্প করে হাসপাতালের লোকদের কাছে দিতে হবে, যাঁরা নিজ দায়িত্বে শিশুকে খাওয়াবেন। এ সময় রাতে ১২টা থেকে ভোর ৭টা পর্যন্ত মা-বাবা শিশুদের কাছে যেতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, রাত ১২টায় স্ত্রীরা শিশুকে খাওয়ানো শেষ করে ফিরে আসেন, এরপর সকালে হাসপাতাল থেকে বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য ডেকে নেওয়া হয়। কিন্তু ঘুমের কারণে বাচ্চা খেতে রাজি ছিল না। তখন নার্সরা বলেন ঘুম থেকে উঠলে ডেকে খাওয়ানো হবে। এরপর মা আবারও ব্রেস্ট পাম্প করে চিকিৎসকদের কাছে দেন।
পরদিন সকাল ১০টায় ডিউটি চিকিৎসক জানায়, বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসায় শিশুকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। ১১টার দিকে তারা শিশুকে মায়ের কাছে দেন এবং জানান ডান হাতে ক্যানোলা পরানোর কারণে ব্যথা হতে পারে, হাত কম নাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। তখনও শিশুটি ঘুমাচ্ছিল এবং পুরো শরীর কাঁথায় মোড়ানো ছিল।
বাড়ি ফেরার পর শিশুর ডান হাত কনুইয়ের উপরে ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা স্পর্শ করতেই শিশু প্রচণ্ড কাঁদছিল।
নূরের সাফাহ্ অভিযোগ করেন, ১২টার দিকে শিশুকে পুনরায় নেওনেটাল ওয়ার্ডে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দাবি করেন, ছাড়পত্র দেওয়ার আগে শিশুকে পরীক্ষা করা হয়েছিল, আর তারা বলছেন বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর শিশুর হাত ভাঙা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মোবাইলে কেন পরীক্ষা করা হয়নি, সেটাই তাদের দোষারোপ।
পরবর্তীকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক্সরে করার পরামর্শ দিয়ে শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, কারণ তাদের হাসপাতালে এক্সরে সুবিধা নেই। নূরের সাফাহ্ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে যান।
তিনি বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশুটি ঘুমিয়ে ছিল, খাওয়ানো যাচ্ছিল না। সন্ধ্যার পর শিশুর অবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং খেতে পারে। যেহেতু রাত ১২টায় শিশু স্বাভাবিক ছিল এবং খাওয়া হয়েছিল, কিন্তু সকাল ৭টার পর থেকে ঘুমিয়ে ছিল, তাই ধারণা করা হচ্ছে রাতের কোনো এক সময় তার হাত ভাঙা হয়েছে এবং সম্ভবত তাকে সিডেটিভ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে যাতে বিষয়টি বোঝা না যায়।
কুষ্টিয়ায় সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা
নতুন চর্চায় জায়েদ খান