পঞ্চগড়

এক কিমি সড়ক খানাখন্দে ভরা, মেরামত করল শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫, ০৬:১৩ পিএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মালাদাম বাজার হতে নলেহাপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরা।  কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে সড়ক জুড়ে কাদার কারণে চলাচলে ভোগান্তিতে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীসহ চলাচল করা দুই সহস্রাধিক মানুষ।

সড়কটি স্থানীয়ভাবে সংস্কার করলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষার্থীদের যেন ভোগান্তির শেষ নেই। খানাখন্দের কারণে সড়কে চলাচল করা ইজিবাইকসহ অন্যান্য যানবাহন কাদায় আটকে যাচ্ছে। সড়কে চলাচল করা শিক্ষার্থীরাও অনেক সময় কাদায় পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। 

তবে এবার সবার ভোগান্তি লাঘবে নিজেরাই সড়ক মেরামতে অংশ নিল মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকেরা।

সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরের বিরতিতে সড়কের কাদা সরিয়ে যানচলাচলের জন্য সাময়িক উপযোগী করা হয়। এ সময় খানাখন্দে বালি দিয়ে ভরাট করা হয়। তবে স্থায়ী ভোগান্তি লাঘবে সড়কটি পাকাকরণের দাবি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের।

মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জুই আক্তার বলেন, সড়কটি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে খুব কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছি। কাদার কারণে সড়ক দিয়ে হাঁটা যায় না। তারপরে আবার যেখানে সেখানে বড় বড় গর্ত। আমরা অনেক সময় পড়ে গিয়ে বই ভিজে যায়, আমাদের স্কুল ড্রেসও ভিজে যায়। আমরা আহত হই। 

একই বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জয়ন্ত চন্দ্র রায় বলেন, মালা দাম বাজার হতে আমাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের যে সড়কটি রয়েছে সেটি খুবই খারাপ অবস্থায়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছিলাম। আজকে সকল শিক্ষার্থীরা মিলে আমরা সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলাম। আমরা চাই সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা হোক। 

বুড়িরবান এলাকার বাসিন্দা প্রসন্ন চন্দ্র রায় বলেন, সড়কটি দিয়ে অন্তত তিনটি ইউনিয়নের ২০ হাজারের বেশি মানুষ যাতায়াত করেন। প্রতিদিন স্থানীয় ময়দানদীঘি বাজারে কৃষিপণ্য নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভ্যানে করে পণ্য নেয়া যায় না। দীর্ঘপথ ঘুরে যেতে হয়। বর্ষাকালে আমাদের দুর্ভোগ কে দেখবে। 

মালাদাম আদর্শ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, মালাদাম বাজার হতে ময়দানদীঘি সড়কটি প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে খানাখন্দে ভরা। স্থানীয়ভাবে ইউপি সদস্য ও বিদ্যালয়ে থেকে আমরা সড়কের সংস্কারে একাধিকবার কাজ করেছি। কিন্তু সড়কটিতে কোনভাবেই খানাখন্দ বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাই অতি দ্রুত সড়কটি পাকাকরনের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।   

ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, সড়কটি প্রতিবছরই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংস্কার করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অন্তত তিনবার সংস্কার করতে হচ্ছে। তবুও খানাখন্দ বন্ধ করা যাচ্ছে না। কাদাও বন্ধ করা যাচ্ছে না। মানুষ অনেক কষ্ট করে সড়কটি দিয়ে চলাচল করছে। সড়কটি পাকাকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত