দেড় দশক পদোন্নতিবঞ্চিত ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষক

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫, ০৭:০১ পিএম

২০০৬ সালের ১ অক্টোবর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান ডা. আবদুল মোতালেব মতিন। পরে সিনিয়র প্রভাষক পদে উন্নীত হন ২০১২ সালে। এরই মধ্যে ২০০৮ সালে ডিসিপি এবং ২০০৯ সালে ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

নিয়ম অনুযায়ী পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রি সম্পন্ন হয়ে গেলেই সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়ার কথা তার। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন হওয়ার পর ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩ বার সহকারী অধ্যাপক ও ১ বার ক্লিনিক্যাল কনসালটেন্ট প্যাথলজি ৪ বার পদে পদোন্নতির জন্য ভাইভা দিলেও পদোন্নতি মেলেনি হতভাগ্য এই মেডিকেল কলেজ শিক্ষকের। প্রথমবার একক ও বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে সাক্ষাৎকার ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎকার ২০১১ সালের ৩০ জুলাই, তৃতীয় বার সাক্ষাৎকার ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর। এ ছাড়া বিগত ২০১৬ সালে ১৫ ডিসেম্বর ক্লিনিক্যাল কনসালটেন্ট প্যাথলজি হাসপাতাল পদের জন্য সাক্ষাৎকার দেন।

দুটি ডিগ্রি, চারটি সাক্ষাৎকার, সকল প্রকার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও এবং সিনিয়রিটির দিক থেকে সবার ওপর অবস্থান করেও গত ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে উপযুক্ত পদ এবং সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন তিনি। ওনার সমসাময়িক সময়ে সমপর্যায়ের ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিভিন্ন বিভাগে একই সময় সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করে অনেকে পরিপূর্ণ অধ্যাপক হয়েছেন। এমনকি তার নিজস্ব বিভাগে অনেক পরে ডিসিপি (ডিপ্লোমা ইন ক্লিনিক্যাল প্যাথ) ডিগ্রি অর্জন করে  সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার নজির রয়েছে। তবে ২০১৯ সালে সহকারী অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে।

নিয়ম অনুযায়ী চলতি দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে সহকারী অধ্যাপকের কাজ করতে হয়। কিন্তু বেতন পান সিনিয়র প্রভাষকের সমমান। এদিকে ডা. মোতালেব অর্ধযুগ ধরে সহকারী অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) পদে দায়িত্ব পালন করে পূর্ণাঙ্গ সহকারী অধ্যাপক পদ না পেলেও, একই বিভাগের আরেকজন শিক্ষক ২০২৩ সালে সহকারী অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) পেয়ে একই বছরে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি সহযোগী অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) পদে দায়িত্বরত রয়েছেন। এক্ষেত্রে ওই শিক্ষক একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (ডিসিপি) নিয়ে পদোন্নতি পেলেও ডা. মোতালেব দুইটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (ডিসিপি ও এমসিপিএস) অর্জন করা সত্ত্বেও কোনো পদোন্নতি পাননি।

এদিকে কলেজ সূত্র থেকে জানা গেছে, ডা. আবদুল মোতালেব মতিনের সঙ্গে একই বিভাগে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় অন্য একজন প্রভাষক চর্ম ও যৌন বিভাগে ডা. মোতালেবের সাথে একই সময়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি (ডিডিভি) অর্জন করে ২০১০ সালে ডা. মোতালেবের সাথে ভাইভা দিয়ে অন্য বিভাগে (চর্ম ও যৌন) পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি একই কলেজে অধ্যাপক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ ডা. মতিন তার নিজস্ব বিভাগে অভিজ্ঞতা থাকা ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেও পদোন্নতি পাননি। তা ছাড়াও ডা. মতিনের ছাত্র, কর্ম ক্ষেত্রে জুনিয়র বা সমপর্যায়ের সহকর্মী অনেকেই পদোন্নতি পেয়েছেন।

তার পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর সাইফ উদ্দিন জানান, পদবঞ্চিত ডা. আবদুল মোতালেব মতিন আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান প্রফেসর লুৎফুর রহমানকে জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ডা. আবদুল মোতালেব বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি উকিল নোটিশ দিয়েছেন। এতদিনে তার পদোন্নতি কেন দেওয়া হয়নি, এমন প্রশ্নের করলে তিনি এড়িয়ে যান।

এ ব্যাপারে মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. শামসুর রহমান জানান, বিষয়টি কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান জানেন।

ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. আফজাল হোসেন জানান, ডা. আবদুল মোতালেব পদোন্নতির বিষয়টি কলেজ প্রিন্সিপাল অবহিত আছেন। কেন তিনি দিচ্ছে না। সেটি তিনি বলতে পারবেন। তবে তিনি পদোন্নতি পাওনা যোগ্য।

ভুক্তভোগী ডা. আবদুল মোতালেব জানান, ২০১০ সাল থেকে তিন বার সহকারী অধ্যাপক ও একবার হাসপাতালে কনসালটেন্ট পদের জন্য ভাইবা পরীক্ষা দিয়ে কোনো ফলাফল পাননি। বিশেষ করে ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পদোন্নতির জন্য আবেদনপত্র জমা দেন গত ২৬ মে। ধর্না দেন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. আফজাল হোসেন, প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. শামসুর রহমান, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান প্রফেসর লুৎফুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ভিসি, এমনকি স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের নিকট। শেষমেশ পদোন্নতি নিশ্চিতের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট আইনি নোটিশও পাঠান ডা. মোতালেব। তবে এতেও হয়নি কোনো কাজ, খোলেনি ভাগ্য। তার দাবি- এখনও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিতই রয়ে গেছেন তিনি। বর্তমান প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত