দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ট্রাম্পের নিশানায় পড়েছেন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির গৃহহীনরা। গত রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া সাইট ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘গৃহহীনদের অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে। আমরা আপনাদের থাকার জায়গা দেব, তবে রাজধানী থেকে অনেক দূরে। অপরাধীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা আপনাদের জেলে পাঠাব, যেখানে আপনারা থাকার যোগ্য।’
তাঁবু ও আবর্জনার ছবি পোস্ট করে তিনি আরও লেখেন, ‘কোনো ভদ্রতা করা হবে না। আমরা আমাদের রাজধানী ফিরে চাই। এ বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ!’
গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তিনি শহরটিকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে নিরাপদ এবং আরও সুন্দর করার পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
তবে ওয়াশিংটনের মেয়র দাবি করেছেন, বর্তমানে অপরাধ বৃদ্ধির কোনো ঘটনা ঘটছে না। তারপরও প্রশাসন ওয়াশিংটনে শত শত ন্যাশনাল গার্ড সৈন্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানান, গত শনিবার রাতে সর্বোচ্চ ৪৫০ জন ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম এমএসএনবিসিকে মেয়র বাউসার বলেন, ‘এটি সত্য যে ২০২৩ সালে আমরা অপরাধ বৃদ্ধির এক ভয়াবহ সময় পেরিয়েছি। তবে দুই বছর ধরে শহরে সহিংস অপরাধ কমিয়ে এনেছি, যা ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ওয়াশিংটন ডিসির মাথাপিছু হত্যার হার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহরের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৯৮টি হত্যার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল।’
ট্রাম্পের পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনো জানা যায়নি। তবে ২০২২ সালের এক ভাষণে তিনি প্রস্তাব করেছিলেন গৃহহীনদের শহরের বাইরে সস্তা জমিতে উচ্চমানের তাঁবুতে স্থানান্তরিত করা হবে, যেখানে থাকবে বাথরুম ও চিকিৎসাসেবা। ওয়াশিংটন ডিসি কোনো রাজ্য না হয়ে ডিস্ট্রিক্ট হওয়ায় শহরটি সরাসরি ফেডারেল সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
