পৃথিবীব্যাপী বাংলাদেশি হাফেজদের বিশেষ কদর রয়েছে। তারা গত দুই দশক ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়েছে। সম্প্রতি মক্কার মসজিদে হারামে শুরু হয়েছে ৪৫তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন দুই কিশোর হাফেজ। ৩০ পারা বিভাগে অংশ নিয়েছেন হাফেজ আবদুল্লাহ আল মারুফ। আর ১৫ পারা বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হাফেজ বশির আহমদ। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তারা ইতিমধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।
গত শনিবার (৯ আগস্ট) মসজিদে হারামে আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধন করেন সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে-শায়খ।
সুন্দর কণ্ঠে কেরাত, কোরআন হেফজ (পূর্ণ কোরআন ও ১৫ পারা গ্রুপ) ও তাফসির বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ১২৮টি দেশের ১৭৯ জন অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রতিযোগিতা শুরুর পর থেকে এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন। প্রতিযোগিতা চলবে টানা ছয় দিন, প্রতিদিন দুটি সেশন থাকবে।
ইসলামবিষয়ক দাওয়াহ ও গাইডেন্স মন্ত্রী শায়খ আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শায়খ পবিত্র কোরআনের প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পেরে মন্ত্রণালয় গর্বিত। প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাফেজরা একত্র হন মক্কায়। কোরআনের সেবায় সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করছে এই প্রতিযোগিতা।
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতায় বিচারক প্যানেলে থাকবেন সৌদি আরব, উগান্ডা, মরক্কো ও আলবেনিয়ার প্রখ্যাত কারিরা।
প্রতিযোগিতায় মোট চার মিলিয়ন রিয়াল পুরস্কার রয়েছে। এছাড়া দশ মিলিয়ন রিয়াল আর্থিক পুরস্কার থাকবে সব অংশগ্রহণকারীর জন্য।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি হাফেজ আবদুল্লাহ আল মারুফের সঙ্গে রয়েছেন তার ওস্তাদ হাফেজ কাইয়ুম মোল্লা। আর হাফেজ বশির আহমদের সঙ্গে রয়েছেন তার ওস্তাদ হাফেজ নেসার আহমদ আন নাছিরী।
হাফেজ বশির ঢাকার মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। আর হাফেজ আবদুল্লাহ আল মারুফ সিদ্ধিরগঞ্জের আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র।
উল্লেখ্য, গত বছর কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার ৪৪তম আসরে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের হাফেজ আনাছ বিন আতিক ও হাফেজ মুয়াজ মাহমুদ। দুজনই জোড়া সাফল্য বয়ে এনেছিলেন দেশের জন্য।
প্রতিযোগিতার ৩য় গ্রুপে ১ম স্থান অর্জন করেছিলেন মারকাজুত তাহফিজের ছাত্র হাফেজ আনাছ বিন আতিক। একই প্রতিযোগিতার ৪র্থ গ্রুপে ১ম স্থান অর্জন করেছিলেন মারকাযু ফয়জুল কোরআন আল ইসলামি ঢাকার কিতাব বিভাগের ছাত্র হাফেজ মুয়াজ মাহমুদ।
