বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চককল্যাণী গ্রামের কাটাখালী বাঁধের প্রায় ৫০ ফুট গত ২৪ (জুলাই) পানির স্রোতে ভেসে যায়। বাঁধ ধসে ইউনিয়নের চকধলী, চককল্যাণী, কল্যাণী, জয়নগর, জয়লাজুয়ান, বেলগাছি, জোড়গাছা ও আউলাকান্দির সঙ্গে ধুনট উপজেলার পেঁচিবাড়ি, জালশুকা, বিশ্বহরিগাছা ও ভুবনগাতি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের গাছপালা ও দোকানঘর ভেসে গেছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন শেরপুর ও ধুনট উপজেলার অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ।
বাঁধ ধসের কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, কৃষিপন্য বাজারজাত করণে সমস্যা, বাজারে যাওয়া-আসা, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এমনকি বয়স্ক ও অসুস্থদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। সংবাদটি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে নজরে আসে এস আর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জেলা বিএনপির সদস্য, বগুড়া-৫ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আসিফ সিরাজ রব্বানীর। এমন পরিস্থিতিতে তিনি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সহায়তায় এবং ব্যক্তিগত অর্থায়নে ১২ গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো নির্মাণের উদ্দ্যোগ গ্রহন করেন।
বিলজয় সাগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলোর দিশারী আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী সিজান সরকার, শুভ, রফিকুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাঁধটি ধ্বসে যাওয়ার পর স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছিল, পারাপারে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের কারনে সময় মত স্কুলে পৌছতে পারছিলাম না। বাঁশের সাঁকো নির্মানের ফলে এখন আমরা সময় মত স্কুলে যেতে পারছি।
আসিফ সিরাজ রব্বানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মানুষের দুর্দশা লাঘবে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে যতটুকু সম্ভব করেছি। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, যাতে দ্রুত সরকারি উদ্যোগে একটি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার জানান, পানির চাপে বাঁধ ভাঙার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ চলছে। তারা জানিয়েছে শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে দেয়া হবে।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিক খান বলেন, বাঁধ ভাঙণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, বগুড়ার শেরপুর উপজেলাধীন সুঘাট ইউনিয়নের কাটাখালী বাঁধের ভাঙনস্থল আমরা গতকালই পরিদর্শন করেছি। বাঁধটি যেহেতু খালের মুখে তাই ভাঙনস্থল বন্ধ করে কোন সুফল পাওয়া যাবেনা। আর স্থানীয়রাও চাইছেন এর স্থায়ী সমাধান। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে আমরা স্থায়ী ব্যবস্থা কালভার্ট নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিব। যাতে করে এলাকার মানুষের দূর্ভোগ স্থায়ীভাবে সমাধান হয়।
