মুক্তাগাছায় অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম

মুদির দোকানে ৩৫০ টাকা বাকির তুচ্ছ ঘটনায় ফাহিম নামে এক অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজিবসহ ১২ জনের নামে হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার শিবপুর গ্রামে।  

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের বোর্ডঘর মোড় এলাকার বাসিন্দা মজনু মিয়ার ছেলে  রাসেল ৩৫০ টাকা বাকি পেত। এ ঘটনায় রাসেল ও তার ভাতিজা অটোরিকশা চালক ফাহিমের কথাকাটাকাটি হয়। সোমবার দুপুরে মানকোন বোর্ডঘর মোড়ে মুদির দোকানদার রাসেলের পক্ষ হয়ে মানকোন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজিব মিয়ার নেতৃত্বে একদল যুবক একত্রিত হয়। পরে সেখানে ফাহিমকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে স’মিলের কাঠ দিয়ে ফাহিমকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। তাকে ফেরাতে গেলে তার চাচা মজনু মিয়া, দাদী ফিরোজা খাতুন, বোন ফারজানা খাতুন, চাচাতো ভাই ইয়াছিন গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর মঙ্গলবার দুপুরে ফাহিমের মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নিহত ফাহিমের মা রুবি আক্তার বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় ছাত্রদল নেতা সজিব মিয়াকে এক নম্বর আসামি করে ১২ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের স্ত্রী খাদিজা বেগম নয় মাসের শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে বলেন, আমার এই শিশু সন্তান তার বাবার জন্য পাগল। বাবাকে না দেখলে সে কান্না করে। এখন কে তার কান্না থামাবে। কে তাকে দুধ কিনে দিবে। আমার এই সন্তানের ভবিষ্যৎ কি। আমার স্বামীকে বিনা দোষে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি তার খুনিদের ফাঁসি চাই।

মুক্তাগাছা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মঞ্জুরুল হক আরিফ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, দোকানের বাকি নিয়ে এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অটোরিকশা চালক ফাহিমের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়। থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত