সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমী শনিবার (১৬ আগস্ট)। এ উপলক্ষে ঢাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই শোভাযাত্রাটি অনুষ্ঠিত হবে।
শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এছাড়া সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খানও উপস্থিত থাকবেন।
বিকেল ৩টায় পলাশী মোড় থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।
আজ শুক্রবার (১৫ আগস্ট) শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় সংগঠন দুটির নেতারা বলেন, গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় নেওয়া হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না। তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের অস্তিত্ব সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলা কমলেও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। এছাড়া নীরব চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিন্দু শিক্ষকদের পদত্যাগে বাধ্য করার মতো ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
নেতারা আরও বলেন, ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে লালমনিরহাট ও রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণের আগেই হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে, যা সংখ্যালঘুদের জন্য ভীতিকর। তারা ধর্ম অবমাননার দায়ীদের শাস্তি দাবি করার পাশাপাশি তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বছর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এসে ‘এক পরিবার’ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ সীমিত বলেও মত দেন নেতারা। তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে আক্ষেপের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নারীরা রাস্তায় বের হলে কটূক্তির শিকার হচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক।
অনুষ্ঠানে পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সহসভাপতি বাবুল দেবনাথ ও শ্যামল কুমার রায়সহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
