খাবারের জন্য প্রাণ হারাচ্ছে গাজার মানুষ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫৭ এএম

টানা প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি অবরোধ ও হামলায় গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। খাদ্যের অভাব ও অনাহারের সঙ্গে হামলা মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা ইতিমধ্যে ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে।

অবরুদ্ধ এই অঞ্চলে কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই। প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছেন কেবল পরিবারের জন্য খাবার খুঁজতে গিয়ে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্য প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা উপত্যকার সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটি এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপ। এ শহরে ইসরায়েলি আক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে। দখলকৃত এ এলাকায় মানুষকে জোর করে দক্ষিণে তথাকথিত কনসেন্ট্রেশন জোনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সোমবার ভোর থেকে চালানো হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৪ জন ছিলেন সাহায্যপ্রত্যাশী।

গাজা সিটির আল-সাবরা এলাকায় বোমাবর্ষণে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে। আহতও হয়েছেন কয়েকজন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক ইসলাম আল-কৌমিও রয়েছেন।

দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তারেক আবু আজযুম জানান, ‘গাজা সিটির পূর্বদিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে হামলা হচ্ছে। হামলার ধরণ থেকে বোঝা যায়, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে গাজার ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত কাঠামো পাল্টে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারী কামান, যুদ্ধবিমান আর ড্রোন দিয়ে আবাসিক ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ধ্বংসযজ্ঞ এত ভয়াবহ যে সহজেই বোঝা যায় ইসরায়েলের লক্ষ্য স্থল অভিযান চালিয়ে পুরো শহরকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দিন-রাত অবিরাম বোমা পড়ছে।’

বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া হাজারো মানুষ আবারও গাজা সিটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে অনেকে থেকে গেছেন। গত রোববারও শহরটি ছিল মূল লক্ষ্যবস্তু, সেদিন প্রাণ হারান প্রায় ৬০ জন। পাশাপাশি ইসরায়েল অবশিষ্ট অল্পসংখ্যক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকেও টার্গেট করছে।

ধ্বংসস্তূপ কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা সাধারণ মানুষের জীবন চলছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। বাস্তুচ্যুত বিলাল আবু সিত্তা হতাশ হয়ে বলেন, ‘আমি দক্ষিণে কীভাবে যাব? সেখানে যেতে প্রায় ৯০০ ডলার লাগে, অথচ আমার কাছে এক ডলারও নেই। আমি কোথায় যাব?’

অন্যদিকে নোয়ামান হামাদ জানান, ‘আমরা ইসরায়েলের কাছ থেকে কোনো সহায়তা চাই না। শুধু আমাদের সেই ঘরে ফিরে যেতে দিন, যেখান থেকে আমরা পালিয়ে এসেছি— আর কিছু চাই না।’

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আলোচনায় এসেছে যুদ্ধবিরতির খসড়া। কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত চুক্তিতে রাজি হয়েছে হামাস। আল জাজিরাকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ চুক্তি কার্যকর হলে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি চলবে। এতে গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দিদের অর্ধেক এবং ইসরায়েলের কারাগারে থাকা একাংশ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হবে।

তবে ফিলিস্তিনিদের মনে শঙ্কা থেকেই গেছে। এর আগে জানুয়ারিতে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলেও মার্চে তা ভেঙে দেয় ইসরায়েল। সেই থেকে চলমান সংঘাত মানবিক বিপর্যয়ের চরম সীমায় পৌঁছেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত