ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্টকে চাপে রাখতে রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছেন ইউরোপিয়ান নেতারা। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ এর দেশগুলো ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে। এই বৈঠকেই তারা পুতিনের ওপর কীভাবে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে আরও চাপ সৃষ্টি করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে ইউক্রেনে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠাবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই কিয়েভকে ১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ হস্তান্তর করেছে রাশিয়া। বিনিময়ে মস্কোকে ১৯ জন রুশ সেনার মরদেহ হস্তান্তর করেছে ইউক্রেন। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই ইউক্রেন জুড়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, মস্কোর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে ভøাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতেই কাজ করছে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর দেশগুলো। অচিরেই সংঘাত শেষ না হলে, রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো অব্যাহত রাখবে তারা। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন ইউরোপীয় নেতারা। এছাড়াও বৈঠকে নেতারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, আগামী দিনগুলোতে তাদের পরিকল্পনা দল যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকারী দলের সঙ্গে বৈঠক করবে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য। যুদ্ধ বন্ধ হলে ইউক্রেনের ভবিষ্যতের সুরক্ষায় একটি ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত থাকার পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে নেতারা আলোচনা করেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধে যে কোনো শান্তিচুক্তির আওতায় ইউক্রেনকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে সাহায্য করবে বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানানোর পর ইউরোপীয় নেতারা আশ্বস্ত হয়েছেন। যদিও এই সাহায্য কী ধরনের হবে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
তবে মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা না পাঠানোর কথা বলেছেন। পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় জেলেনস্কিকে কিছুটা নমনীয় হতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এ সময় ট্রাম্প বলেন, আমরা ইউক্রেনে কোনো সেনা পাঠাব না। কিন্তু ইউরোপের দেশগুলো চাইলে তাদের সেনাদের ইউক্রেনে পাঠাতে পারে। এ সময় তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকের মধ্যস্থতা করবেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনীয়রা তাদের জীবন ফিরে পেতে চলেছে। তারা অনেক জায়গা পেতে যাচ্ছে। কিন্তু এটা একটা যুদ্ধ, কেউ পছন্দ করুক বা না করুক রাশিয়া একটি শক্তিশালী সামরিক শক্তি।
এদিকে, কিয়েভকে ১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ হস্তান্তর করেছে রাশিয়া। বিনিময়ে মস্কোকে ১৯ জন রুশ সেনার মরদেহ হস্তান্তর করেছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সহকারী এবং অন্যতম মুখপাত্র ভøাদিমির মেডিনস্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। টেলিগ্রাম পোস্টে মেডিনস্কি জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য ইস্তাম্বুলের এই সংলাপকে ‘ইস্তাম্বুল চুক্তি’-তে উন্নীত করা। মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্তও সেই আলোকেই নেওয়া হয়েছে। গত মে মাস থেকে শান্তি সংলাপ শুরু হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে। সংলাপ শুরুর ১ মাসের মধ্যে, ২ জুন প্রথমবার যুদ্ধে নিহত সেনাদের মরদেহ এবং জীবিত যুদ্ধবন্দিদের বিনিময়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় মস্কো ও কিয়েভ। সেবার ৬ হাজার করে মোট ১২ হাজার সেনার মরদেহ এবং ১ হাজার করে মোট ২ হাজার জীবিত যুদ্ধবন্দি বিনিময় করেছিল রাশিয়া ও ইউক্রেন। পরে জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও ১ হাজার ২০০ জন করে মোট ২ হাজার ৪০০ জন যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয় যুদ্ধরত দুই প্রতিবেশী দেশ।
তবে চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেন জুড়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, এক রাতে ইউক্রেনের ওপর ২৭০ ড্রোন ও ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করেছে মস্কো। রাতের এ হামলায় দেশটির পলতাভা অঞ্চলের তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু হয় এবং সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এটি চলতি মাসের সবচেয়ে বড় হামলা।
