হিলি স্থলবন্দরে একদিনে ২৯ ট্রাক কাঁচামরিচ আমদানি, তবুও বাড়ছে দাম

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৩৯ পিএম

দেশের বাজারে কাঁচামরিচের চাহিদা ও মূল্য বাড়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল একদিনেই ভারত থেকে ২৯টি ট্রাকে ২৩৯ টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। তবে এত বিপুল পরিমাণ আমদানির পরেও বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমছে না।

আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সেখানেও কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও।

হিলি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, আগে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ট্রাক কাঁচামরিচ আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ থেকে ২০ ট্রাকে। গত ৬ দিনে মোট ৭২টি ট্রাকে ৬১৮ টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। তবুও বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।

বগুড়া থেকে হিলিতে কাঁচামরিচ কিনতে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসেন, ‘দেশীয় কাঁচামরিচের সরবরাহ কম ও দাম বেশি হওয়ায় হিলিতে এসেছি। এখানে প্রচুর কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে, কিন্তু দাম কমছে না। সেইসঙ্গে ক্রেতা বেশি থাকায় আমদানিকারকরাও দাম ছাড়ছে না। কেজি প্রতি ১৮০ টাকা দর চাওয়া হচ্ছে। এত দামে কিনে মোকামে বিক্রি করতে গিয়ে আমরা লোকসান গুনছি। গতকাল ১৭০ টাকায় কিনে ১২০ টাকায় বিক্রি করেছি — প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা লোকসান।’

আরেক পাইকার আফজাল হোসেন বলেন, ‘দেশীয় কাঁচামরিচের সরবরাহ কম থাকায় হিলি স্থলবন্দরে এসেছি আমদানিকৃত কাঁচামরিচ কিনতে। কিন্তু বন্দরে দাম তো চড়া, ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এত বেশি দিয়ে কিনে যদি পচা বা খারাপ পণ্য পাই, তাহলে তো আরও ক্ষতি।’

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারতের বেনারস থেকে কাঁচামরিচ আমদানি করছি। কিন্তু ভারতে বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রতি কেজি ৮০–৯০ রুপি দরে কিনতে হচ্ছে। সঙ্গে আমদানিতে প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা শুল্ক দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাদের কেনা খরচই অনেক বেশি। তাই দেশে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি করেও লাভ হচ্ছে না, বরং লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের অন্যান্য রাজ্যে নতুন মরিচ উঠলে সরবরাহ বাড়বে এবং তখন দাম কমতে পারে। পাশাপাশি আমদানি শুল্ক কিছুটা কমানো হলে দেশের বাজারেও দাম কমে আসবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত