ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ হলো শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তাই ডাকসু নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয় বরং শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে স্বীকৃতি দেওয়ার এবং তাদের বাস্তব সমস্যা সমাধানের সুযোগ। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী ও ভোটার হিসেবে আমার প্রত্যাশা খুবই স্পষ্ট আমরা চাই ডাকসু সত্যিকারের শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব দ্বারা পরিচালিত হবে।
সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে। দীর্ঘ ছয় বছর পর আবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন নতুন করে শিক্ষার্থীদের আশা জাগিয়েছে। ইতিমধ্যে তফসিল ঘোষণা, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা এবং মনোনয়ন গ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছেন, ভোটারদের কাছে তাদের ইশতেহার তুলে ধরছেন এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী, ভিপি পদে ৪৮ জন এবং জিএস পদে ১৯ জন। এত প্রার্থী আগে কখনো হয়নি। দলের বাইরে অনেকে প্রার্থী হয়েছেন। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেবল রাজনৈতিক দল নয়, প্রকৃত শিক্ষার্থীই কথা বলবে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তাই আমার প্রত্যাশা হলো নির্বাচিত নেতৃত্ব শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপও গ্রহণ করবে। আমাদের মূল সমস্যাগুলো সমাধান করবে। শিক্ষার্থীরা চাই ন্যায্য এবং স্বচ্ছ সিট বণ্টন, যেন দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ বঞ্চিত না হয়। হলগুলোতে সিটের অভাব এবং অনিয়ম শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচিত নেতৃত্ব এই সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
লাইব্রেরি, ক্লাসরুম, গবেষণা সুবিধা এবং একাডেমিক প্রতিযোগিতার সুযোগ বৃদ্ধির ওপর শিক্ষার্থীদের জোর। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রত্যাশা করি, ডাকসু শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। হোস্টেল, লাইব্রেরি এবং শিক্ষার্থীর চলাফেরার প্রতিটি জায়গায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা আমাদের প্রধান দাবি। হলের খাবারের মান, আবাসন ব্যবস্থাপনা, পড়াশোনার পরিবেশ এসবই শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। আমরা শিক্ষার্থীরা চাই, ডাকসু এসব বিষয়ে নজর রাখুক এবং সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নিক।
একজন শিক্ষার্থী ও ভোটার হিসেবে আমি আশা করি, নির্বাচিত নেতৃত্ব স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার যেন সুরক্ষিত থাকে এবং ডাকসু কেবল রাজনৈতিক দল না হয়ে শিক্ষার্থীদের আশা, স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল হোক। আমরা চাই, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দিতে পারবে এবং নির্বাচিতরা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।
আমাদের বিশ্বাস, ডাকসু শুধু একটি নির্বাচনের মঞ্চ নয়। এটি আমাদের স্বপ্ন, আশা এবং অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেবে। এই নির্বাচন আমাদের জন্য একটি সুযোগ। আমি চাই নির্বাচিত নেতা শুধু প্রতিশ্রুতি না দিয়ে সত্যিকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করুক, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হোক এবং ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব স্থান হিসেবে গড়ে তুলুক।
জান্নাত আক্তার নিপু
শিক্ষার্থী, সপ্তম সেমিস্টার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রোকেয়া হল (অনাবাসিক), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
