বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আমাদের দেশে সড়কের নির্মাণ ব্যয় কমাতে হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে সড়কের নির্মাণ ব্যয় অনেক গুণ বেশি। পাশাপাশি সড়কের স্থায়িত্বও যেন বাড়ে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের (এন-১০৫) প্রথম ধাপের ১৮ কিলোমিটার অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশে বড় কোন প্রকল্প নিলে বিদেশি প্রকৌশলীদের সহযোগিতা নিতে হয়। বিদেশিরা আর কতদিন আমাদের এসব প্রকল্প করে দিয়ে যাবে। আমাদের দেশে দক্ষ প্রকৌশলীদের এসব কাজে নিয়োজিত করতে হবে।
আমাদের প্রকৌশলীরা যেন আমাদের দেশের বড় বড় স্থাপনাগুলো নিজেরাই করতে পারে সে সক্ষমতা আমাদের অর্জন করতে হবে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেস ওয়েটি খুলে দেওয়া হয়।
উদ্বোধনের আগে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে এই অংশ পরীক্ষামূলকভাবে তিন দিন টোল ফ্রি চালু করা হয়।
৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের মে মাসে। ভোগড়া বাইপাস থেকে মদনপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রকল্পের ৭৬ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পুরো এক্সপ্রেসওয়ে হস্তান্তরের সময়সীমা ২০২৬ সালের জুন।
প্রকল্পের সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ফারদিন ইমাম জানান, ১৮ কিলোমিটার অংশের নির্মাণ প্রায় শেষ, তাই যান চলাচলের জন্য তা খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ও গতি নিশ্চিত করতে এক্সপ্রেসওয়েতে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই অংশে কোনো ইউটার্ন থাকবে না বলেও জানানো হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে এটি দেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য একটি বিকল্প রুট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজীপুর অংশের ভোগড়া হতে পূর্বাচল পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার টোল সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। একইসাথে গাজীপুরের ভোগড়া হতে নারায়ণগঞ্জের বস্তুল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সার্ভিস সড়কের অধিকাংশের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওই সড়কের বিভিন্ন অংশে দুইটি রেলওয়ে ওভারপাস (ধীরাশ্রম ও মীরেরবাজার) এবং কাঞ্চন, নাগদা (২টি), উলুখোলা (২টি)সহ ৮টি সেতু নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কাঞ্চন হতে ভুলতা পর্যন্ত অংশে টোল সড়কের নির্মাণকাজ চলমান আছে। ভুলতা থেকে মদনপুর পর্যন্ত অংশে মাটি ভরাটসহ অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ৭০% এবং নারায়ণগঞ্জ অংশে ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি শিফটিং ডিসেম্বরের মধ্যে সমাপ্ত হলে জুন ২০২৬ নাগাদ প্রকল্পের অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।
