কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইউটার্ন নেওয়ার সময় ফের দুর্ঘটনা ঘটেছে। মহাসড়কের বেলতলি ইউটার্ন পার হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের ধাক্কায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিআরটিসির ৪ নম্বর বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়।
রবিবার (২৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় বাসের চালকসহ তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কুবি ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক গুরুতর আহত হন। তাকে কুমিল্লা মাতৃছায়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাসায় পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে পদুয়ার বাজার ইউটার্নে উল্টো পথে একটি প্রাইভেট কার, একটি বাস ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা হঠাৎ চলে এলে লরির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় লরি উল্টে নিচে চাপা পড়ে প্রাইভেট কারের চার যাত্রী নিহত হয়েছেন।
এদিকে কুবির বাস দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ২টা ১০ মিনিটের সময় ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যায় বাসটি। আড়াইটার দিকে বেলতলি ইউটার্ন নিতে গেলে হঠাৎ একটি ট্রাকে গতি বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় বাসের সামনে গ্লাস ভেঙে যায় এবং তিন শিক্ষার্থীসহ চালক আহত হন।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশের পরিবহন সেক্টরে ড্রাইভার-হেল্পারদের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত থাকায় মাতাল অবস্থায় তারা গাড়ি চালায়। এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে নানা অপরাধের সঙ্গে তারা জড়িত। সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ছাড়া এসব অপরাধ দমন সম্ভব নয় বলে শিক্ষার্থীরা মনে করেন।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাহিম বলেন, ‘আজ যদি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটত তাহলে ফিটনেসবিহীন এই পুরোনো বাসের দায় এড়াতে পারত না প্রশাসন। অবিলম্বে পরিবহন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে বাস সংস্থার কাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেই ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বাসের সামনে গ্লাস ভেঙে গেছে, কয়েকজন শিক্ষার্থী হালকা আহত হয়েছে।’
তবে ফিটনেসবিহীন বাসের কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের কিছু করার নেই। গত ১৫ বছরে সরকার নতুন বাস কিনেনি। যে পুরোনো বাস আছে, সেগুলো ঠিকঠাক করে চালাতে হচ্ছে। প্রাইভেট কোম্পানি থেকেও বাস আনতে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা ৮টি চাইলে ওরা ৪টি দেয়।’
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে একাধিকবার কল দিলেও পাওয়া যায়নি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘আমরা বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো। আমি তো একা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না।’
